ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে নিরাপত্তা কার্যক্রম; সদর দপ্তর থেকে সরাসরি নজরদারি
সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
চলমান শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ৩৩ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন রয়েছে। শিল্পকারখানার নিরাপত্তা, জনসাধারণের জানমালের সুরক্ষা এবং স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করছেন বাহিনীর সদস্যরা।
রোববার (৮ নভেম্বর) বিজিবি সদর দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট শিল্পাঞ্চলগুলোতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বিজিবি সদস্যরা।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ও মিরপুর এলাকায় বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। নারায়ণগঞ্জে বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন শিবু মার্কেট, জালকুড়ি, বিসিক শিল্পনগরী, চাষাঢ়া, কাঁচপুর ও শিমরাইল এলাকায়।
গাজীপুরের চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, মৌচাক, আমবাগ, কাশিমপুর, নাওজোর, ভোগড়া বাইপাস, গাছা ও সালনাতেও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বিজিবি সদস্যরা। এসব এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদারকিতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা ব্যবহার করছে বিজিবি। সদর দপ্তরের মনিটরিং সেল থেকে সরাসরি পাওয়া ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ফলে মোতায়েন করা সদস্যদের কার্যক্রম এবং শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি কেন্দ্রীয়ভাবে নজরদারির আওতায় রয়েছে।
এর আগে ৫ নভেম্বর প্রকাশিত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিবেদনে বিজিবির অঞ্চলভিত্তিক মোতায়েনের তথ্য জানানো হয়। ওই সময় মিরপুরে ৩ প্লাটুন, সাভার ও আশুলিয়ায় ১১ প্লাটুন, গাজীপুরে ১২ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জে ৭ প্লাটুন সদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন। অর্থাৎ তিন জেলার শিল্পাঞ্চলে ৩৩ প্লাটুন মোতায়েনের কার্যক্রম রোববারের আগেও চালু ছিল।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সাঁজোয়া যান বা আর্মার্ড পারসোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি) এবং দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী যান বা রায়ট কন্ট্রোল ভেহিকল (আরসিভি) রাখার কথাও আগের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে সরাসরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং দায়িত্ব পালনকালে সদস্যদের শরীরে সংযুক্ত ক্যামেরা ব্যবহারের তথ্য দেওয়া হয়। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঠের পরিস্থিতি সদর দপ্তর থেকে পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করা হচ্ছে।
শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে রয়েছে মজুরি বাড়ানোর দাবি। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ৫ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। তবে শ্রমিকদের এই দাবিকে চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত নতুন মজুরি হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই।
এদিকে রোববার সকালে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের কাজে ফেরার খবরও পাওয়া গেছে। জাগো নিউজের ৮ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলেও শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েন অব্যাহত রয়েছে। ফলে উৎপাদন কার্যক্রমে ফেরার পাশাপাশি নিরাপত্তা নজরদারিও চলমান আছে।
বিজিবি জানিয়েছে, শিল্পাঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানুষের জানমালের সুরক্ষা এবং স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে তাদের মোতায়েন ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


