সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৯ আগস্ট ২০২৬
নীতিমালা এখনো খসড়া পর্যায়ে; অংশীজনদের মতামত নিয়েই চূড়ান্ত করার কথা জানিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়
বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নিয়ে প্রস্তাবিত নীতিমালা সম্পর্কে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘অনুমাননির্ভর ও অসত্য’ তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলছে, নীতিমালাটি এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে এবং কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এটি করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণের পরই
ঢাকা: বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি ও বিপণনসংক্রান্ত প্রস্তাবিত নীতিমালা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু তথ্যকে ‘অনুমাননির্ভর ও অসত্য’ বলে উল্লেখ করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
শনিবার (৮ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেকের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অবস্থান জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার দেশে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিপূর্বক সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা, ২০২৬’–এর একটি খসড়া তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রস্তাবিত নীতিমালার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখা। একই সঙ্গে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলে জরুরি বা সংকটকালীন পরিস্থিতিতে সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সক্ষমতাকে জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগানোর লক্ষ্য রয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নীতিমালাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করার পর এর চূড়ান্ত রূপ নির্ধারণ করা হবে। জনস্বার্থ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হলেই এ ধরনের নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়িক গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—এমন আলোচনাও প্রত্যাখ্যান করেছে মন্ত্রণালয়। তাদের বক্তব্য, প্রস্তাবিত নীতিমালার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই। পাশাপাশি প্রস্তাবিত নীতিমালা নিয়ে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তবে নীতিমালা তৈরির প্রক্রিয়া ও সময়সীমা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) ১০ আগস্টের মধ্যে খসড়া নীতিমালা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছিল। প্রতিবেদনে কয়েকজন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এত গুরুত্বপূর্ণ একটি নীতি তৈরিতে পর্যাপ্ত আলোচনা, কারিগরি মূল্যায়ন এবং বাজার ও ভোক্তা স্বার্থের প্রভাব পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বিশেষ করে মূল্য নির্ধারণ, বাজারে প্রতিযোগিতা, জ্বালানি ভর্তুকি, বিতরণব্যবস্থা এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মতো বিষয় স্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তাদের মতে, বেসরকারি খাতকে বৃহৎ পরিসরে জ্বালানি আমদানি ও বিপণনের সুযোগ দেওয়া হলে জাতীয় স্বার্থ ও ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী নজরদারি ও জবাবদিহির ব্যবস্থা প্রয়োজন।
এ অবস্থায় সরকারের বক্তব্য হলো—প্রস্তাবিত নীতিমালা এখনো খসড়া পর্যায়ে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত নেওয়া হবে। ফলে নীতিমালার চূড়ান্ত কাঠামো, কোন প্রতিষ্ঠান কীভাবে অংশ নিতে পারবে এবং বাজার পরিচালনার শর্ত কী হবে—এসব বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি।


