সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১ জুলাই ২০২৬
চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করা একটি মাছ ধরার নৌকার ইঞ্জিন কক্ষে বিস্ফোরণের ঘটনায় ছয়জন নাবিক দগ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে সদরঘাট এলাকার সাম্পানঘাট সংলগ্ন নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর নৌকাটিতে আগুন ধরে গেলে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—ক্যাডেট ইঞ্জিনিয়ার আশিকুজ্জামান তামিম, গ্রিজার রুবেল, শাহ আলম, উইঞ্চ অপারেটর নিজাম উদ্দিন, ডাইভার রাসেল এবং নাবিক সিদ্দিক আহমেদ। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
পুলিশ ও নৌযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গভীর সমুদ্র থেকে মাছ ধরা শেষে নৌকাটি আগের দিন কর্ণফুলী নদীর সাম্পানঘাট এলাকায় নোঙর করেছিল। মঙ্গলবার দুপুরে ইঞ্জিন কক্ষে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে ইঞ্জিন কক্ষে কর্মরত কয়েকজন গুরুতরভাবে দগ্ধ হন, আর অন্যরা তাদের উদ্ধারে গিয়ে আহত হন।
চট্টগ্রাম নৌ-পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় বিশেষায়িত বার্ন ইউনিটে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকিদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর নৌ-পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইঞ্জিন কক্ষের যান্ত্রিক ত্রুটি বা দাহ্য পদার্থ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কোনো কারণ জানানো হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছ ধরার নৌকায় নিয়মিত যান্ত্রিক পরীক্ষা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তা নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণ করলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
মূল বিষয়সমূহ
- কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করা মাছ ধরার নৌকায় ইঞ্জিন কক্ষে বিস্ফোরণ।
- আগুনে ছয়জন নাবিক দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।
- কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
- বিস্ফোরণের কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে নৌ-পুলিশ।
- নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদকের নোট: তদন্ত শেষ হলে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদন হালনাগাদ করা হবে।
