সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৯ আগস্ট ২০২৬
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের লেনদেন খরচ কমাতে সহায়তা; অর্থবছর শেষে দিনে ১ কোটি ডিজিটাল লেনদেনের লক্ষ্য
দেশে নগদবিহীন লেনদেনের পরিধি বাড়াতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহিত করার জন্য ১০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রয়োজন হলে তহবিলের আকার আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর। বর্তমানে দেশে মাসে প্রায় ১ কোটি ডিজিটাল লেনদেন হলেও চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ তা প্রতিদিন ১ কোটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেশে ডিজিটাল ও নগদবিহীন লেনদেন আরও জনপ্রিয় করতে বাংলা কিউআর ব্যবহারের সম্প্রসারণে বড় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেনে উৎসাহিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে এই তহবিলের পরিমাণ আরও বাড়ানো হতে পারে।
শনিবার (৮ আগস্ট) চট্টগ্রামের র্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (IFC) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বাংলা কিউআর বিষয়ক এক কর্মশালায় এ উদ্যোগের কথা জানানো হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য দেশের ছোট-বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ আরও সহজ করা এবং নগদ অর্থের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলা কিউআরের ব্যবহার সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দ্রুত বেড়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ৭ লাখ ২৩ হাজার ৩৭৮টি লেনদেনে ২১২ কোটি ৫ লাখ টাকা পরিশোধ হয়েছিল। জুলাইয়ে লেনদেনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ লাখ ৫৪ হাজার ৯৩৮টি, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১ হাজার ৪৭৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। ছয় মাসে লেনদেনের সংখ্যা প্রায় ৮ দশমিক ৬ গুণ বেড়েছে।
বাংলা কিউআর গ্রহণকারী মার্চেন্টের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে বাংলা কিউআর মার্চেন্ট ছিল প্রায় ১৩ লাখ ৫২ হাজার। জুনে তা বেড়ে ১৬ লাখ ৮৫ হাজার এবং জুলাইয়ে প্রায় ২৪ লাখ ২৫ হাজারে পৌঁছেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে মাসে প্রায় ১ কোটি ডিজিটাল লেনদেন হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ এই পরিমাণকে প্রতিদিন ১ কোটি লেনদেনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। লক্ষ্য অর্জিত হলে বর্তমান অবস্থার তুলনায় ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
বাংলা কিউআর হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত একটি আন্তঃপরিচালনযোগ্য বা interoperable কিউআর পেমেন্ট ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে একজন গ্রাহক অংশগ্রহণকারী ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) বা পেমেন্ট সেবাদাতার অ্যাপ ব্যবহার করে একই বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করে মার্চেন্টকে অর্থ পরিশোধ করতে পারেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক এর আগে ব্যাংক, এমএফএস ও পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের মোবাইল অ্যাপের হোমপেজে বাংলা কিউআর অপশন দৃশ্যমান রাখা এবং ট্রেড লাইসেন্সধারী খুচরা ব্যবসায়ীদের বাংলা কিউআর ব্যবস্থায় যুক্ত করার নির্দেশ দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফিসিয়াল নির্দেশনায় ৩১ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে নতুন মার্চেন্ট অনবোর্ডিং ও গ্রাহক নিবন্ধন বাড়াতে নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনাও চাওয়া হয়েছিল।
তবে ১০০ কোটি টাকার তহবিলের ভর্তুকি দেওয়ার পদ্ধতি এবং কোন ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কী পরিমাণ সুবিধা পাবেন—সেই বিস্তারিত কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে পৃথক নীতিমালা প্রকাশ করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনায় দেশে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। বাংলা কিউআরসহ ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বাড়লে নগদ টাকা ছাপানো, পরিবহন, সংগ্রহ ও নষ্ট নোট ব্যবস্থাপনার ব্যয় কমানোর পাশাপাশি লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।


