প্রকল্পের ফল ও সুশাসন পর্যালোচনায় আজ থেকে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের দুই মিশন

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৯ আগস্ট ২০২৬

RELI প্রকল্পের ফলাফল ও উন্নয়ন প্রভাব মূল্যায়নে একটি দল থাকবে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত; অন্য মিশনের নজরে আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সরকারি ক্রয় ও জবাবদিহি

বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর সুশাসন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি এবং Resilience, Entrepreneurship and Livelihood Improvement (RELI) প্রকল্পের ফলাফল ও উন্নয়ন প্রভাব পর্যালোচনায় আজ রোববার, ৯ আগস্ট থেকে বিশ্বব্যাংকের দুটি মিশনের পূর্বনির্ধারিত সফরসূচি শুরু হচ্ছে। একটি মিশনের কার্যক্রম চলবে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত এবং অন্যটি ১৩ আগস্ট পর্যন্ত।

বাংলাদেশে চলমান বিশ্বব্যাংক-সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পগুলোর সুশাসন এবং একটি বড় জীবিকাভিত্তিক প্রকল্পের উন্নয়ন প্রভাব পর্যালোচনায় আজ রোববার থেকে বিশ্বব্যাংকের দুটি মিশনের সফরসূচি শুরু হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান অপারেশনস ম্যানেজার গেইল এইচ মার্টিনের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকীকে গত ২১ ও ২৬ জুলাই পাঠানো দুটি চিঠির বরাতে প্রকাশিত তথ্যে এ সফরসূচির কথা জানা যায়।

প্রথম মিশনটি Resilience, Entrepreneurship and Livelihood Improvement (RELI) প্রকল্পের Learning and Results Note বা LeaRN মূল্যায়নের অংশ হিসেবে ৯ থেকে ১৬ আগস্ট বাংলাদেশ সফর করবে। মিশনটি প্রকল্পের অর্জিত ফলাফল, উন্নয়নগত প্রভাব এবং আর্থিক ও অর্থনৈতিক দক্ষতা মূল্যায়ন করবে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা, শেখা বিষয় ও ভালো চর্চাগুলো তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের মাধ্যমে নথিবদ্ধ করা হবে।

মিশনটির নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র কৃষি বিশেষজ্ঞ ও টাস্ক টিম লিডার সামিনা ইয়াসমিনের। প্রতিনিধি দলে কৃষি, অর্থনীতি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সরকারি ক্রয়, পরিবেশ, সামাজিক উন্নয়ন, প্রকল্প মূল্যায়ন ও রেজিলিয়েন্স বিশ্লেষণের বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) একজন বিশেষজ্ঞ থাকার কথা রয়েছে।

RELI প্রকল্পটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনে সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (SDF) বাস্তবায়ন করেছে। SDF-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির মোট ব্যয় প্রায় ৩৪১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (IDA) থেকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশ সরকারের ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং উপকারভোগীদের ম্যাচিং গ্র্যান্ট হিসেবে ১ মিলিয়ন ডলার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পটি দেশের দরিদ্র ও অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবিকা, কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং জলবায়ু ও অর্থনৈতিক অভিঘাত মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

অন্যদিকে, বিশ্বব্যাংকের Governance Global Practice-এর দ্বিতীয় মিশনটি ৯ থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রকল্প পোর্টফোলিও সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক, প্রশাসনিক ও সুশাসনের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবে। মিশনটির নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে প্র্যাকটিস ম্যানেজার হিশাম আহমেদ ওয়ালি এবং সিনিয়র অপারেশনস অফিসার আলেকসান্ডার কোচেভস্কির।

এই প্রতিনিধি দল অর্থ মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট (PIU) এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করবে। আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সরকারি ক্রয়, জবাবদিহি, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চলমান সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়

বাংলাদেশে সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে বিশ্বব্যাংক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০২৫ সালে অনুমোদিত ২৫০ মিলিয়ন ডলারের Strengthening Institutions for Transparency and Accountability (SITA) প্রকল্পের লক্ষ্যও সরকারি ক্রয়, আর্থিক তদারকি, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানো।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দুই মিশনের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংক-অর্থায়িত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের মান, আর্থিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রকল্পকে আরও কার্যকর করতে সহায়ক হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *