সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন: সোশ্যাল মিডিয়ার নৈরাজ্য রোধে সরকারের পদক্ষেপ

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬  

বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় সামাজিক ব্যাধি ও জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি সাইবার বুলিং, গুজব, অপপ্রচার এবং অনলাইন চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমনের লক্ষ্যে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন’ আরও সংশোধন করতে যাচ্ছে সরকার। খসড়া আইনটিতে অপরাধের পরিধি ও শাস্তির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে সাইবার সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য থামানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমাজের সর্বস্তরের অংশীজন ও আইটি বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে প্রণীত এই সংশোধনী উদ্যোগকে নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং ডিজিটাল শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

প্রস্তাবিত সংশোধিত আইনের খসড়ায় সাইবার অপরাধের সংজ্ঞায় ‘গুজব’, ‘অপপ্রচার’, ‘হেয় প্রতিপন্ন’ এবং ‘মানহানিকর তথ্য’ এই চারটি শব্দকে যুক্ত করে অপরাধের ক্ষেত্র আরও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী:

গুজব ও অপপ্রচার রোধ: সাইবার পরিসরে কোনো অসমর্থিত বা অযাচাইকৃত তথ্য বা গুজব প্রকাশ করে জনমনে আতঙ্ক বা অস্থিরতা সৃষ্টি করলে নতুন (২৬/ক) ধারা অনুযায়ী অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৪০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

মানহানি ও এআই কনটেন্ট: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা এডিটেড অডিও-ভিডিও ব্যবহার করে কাউকে হেয় প্রতিপন্ন বা মানহানি করলে ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব রয়েছে। বিশেষ করে নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে এই অপরাধের শাস্তি বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল: প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা সার্বিক নিরাপত্তা ও নীতি নির্ধারণে কাজ করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া বর্তমানে কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ব্ল্যাকমেইলিং ও চরিত্রহননের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের মানসম্মান রক্ষার্থে এই ধরনের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও আইনি কাঠামো সময়ের দাবি ছিল। সরকারের এই সাহসী উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে সাইবার জগতের নৈরাজ্য অনেকটাই কমে আসবে এবং নাগরিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *