সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৪ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রাজধানীর গণভবন এখন নতুন পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। প্রায় দেড় দশক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত এই স্থাপনাকে রূপান্তর করা হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এ। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামীকাল বুধবার, ৫ আগস্ট জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত সাবেক গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তরের মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন, আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের স্মৃতি এবং দেশের বিভিন্ন সময়ের গুম, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনাগুলো সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যে ভবন একসময় রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল, সেটিই এখন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস, গণআন্দোলন ও সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার নথি সংরক্ষণের স্থানে পরিণত হচ্ছে।
উদ্বোধনের প্রস্তুতি, স্থায়ী জনবল এখনো নিয়োগ হয়নি
জাদুঘর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগপ্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। তা সত্ত্বেও নির্ধারিত দিনে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের লক্ষ্যে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, টিকিট বিক্রি, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, প্রদর্শনী ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য পরিচালনাগত বিষয় চূড়ান্ত করার কাজ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, স্থায়ী জনবল না থাকায় জাতীয় জাদুঘরের ১৮ কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এখানে কাজ করছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগ করে জাদুঘর পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নথিতেও ২০২৬ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন এবং স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা আয়োজনের তথ্য রয়েছে। তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের নির্দিষ্ট সময়, অতিথিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এবং সাধারণ দর্শনার্থীরা ঠিক কখন থেকে প্রবেশ করতে পারবেন—সে বিষয়ে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
গণভবন থেকে স্মৃতি জাদুঘর হওয়ার যাত্রা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিপুলসংখ্যক মানুষ গণভবন প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। সেদিন ভবনটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আসবাবপত্র ও নানা সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরদিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গণভবন প্রাঙ্গণের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর এক মাস পর, ৫ সেপ্টেম্বর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার স্থাপনাটিকে জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তী সময়ে সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ নীতিগতভাবে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে।
গণভবন কমপ্লেক্সের আয়তন প্রায় ১৭ দশমিক ৬৮ একর। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পরবর্তী সময়ে জমি ও স্থাপনা সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করে। দুই মন্ত্রণালয় যৌথভাবে জাদুঘর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে।
গণপূর্ত বিভাগ মূল ভবন মেরামত, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা পুনর্নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত কাজের দায়িত্ব পালন করে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর প্রদর্শনী পরিকল্পনা, স্মৃতিচিহ্ন সংগ্রহ, শিল্পকর্ম ক্রয়, ভাস্কর্য নির্মাণ, গ্যালারি ডিজাইন, তথ্যচিত্র তৈরি, অভ্যন্তরীণ সজ্জা এবং প্রয়োজনীয় আসবাব ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহের কাজ করেছে।
কী থাকবে জাদুঘরে?
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার ছবি, আন্দোলনকারীদের ব্যবহৃত সামগ্রী, নিহত ব্যক্তিদের পোশাক ও স্মৃতিচিহ্ন, ব্যক্তিগত চিঠি, গুরুত্বপূর্ণ নথি, সংবাদপত্রের কাটিং, পোস্টার, দেয়াললিখন, অডিও-ভিডিও এবং শিল্পকর্ম জাদুঘরে প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উপাদানের মাধ্যমে আন্দোলনের শুরু, বিস্তার, সংঘাত, হতাহত এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
জাদুঘরটি শুধু কিছু ছবি বা ব্যবহার্য সামগ্রী প্রদর্শনের জায়গা হিসেবে নয়, বরং একটি ঘটনা কীভাবে ধীরে ধীরে দেশব্যাপী গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছিল—তার ধারাবাহিক বর্ণনা দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে সাজানো হয়েছে।
বিভিন্ন গ্যালারিতে সময়ক্রম অনুসারে আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দিন, মানুষের অংশগ্রহণ, হতাহতের ঘটনা, দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন নথি তুলে ধরা হতে পারে। দর্শনার্থীরা যাতে শুধু প্রদর্শনী দেখেন না, বরং ঘটনার সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও বুঝতে পারেন—সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতীকী সমাধি ও স্মৃতির প্রাঙ্গণ
জাদুঘর প্রাঙ্গণে আন্দোলনে নিহত ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সময়ে গুম ও হত্যার শিকার মানুষের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য প্রতীকী সমাধি নির্মাণ করা হয়েছে। জাদুঘর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে আড়াই হাজারের বেশি প্রতীকী সমাধি নির্মিত হয়েছে এবং এ কাজ এখনো চলমান। বিভিন্ন ঘটনার প্রায় চার হাজার ভুক্তভোগীর নাম ও স্মৃতি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এই সংখ্যা ও তালিকাগুলো জাদুঘর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যনির্ভর। কার নাম কোন ঘটনার অধীনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং তালিকা তৈরিতে কী যাচাইপদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে জাদুঘরের পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশিত হলে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে।
জাদুঘর প্রাঙ্গণে কয়েকটি ভাস্কর্যও স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে আন্দোলনের সময় সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন পেশাজীবীর অংশগ্রহণ তুলে ধরা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর এলাকায় রিকশার ওপর দাঁড়িয়ে আন্দোলনকারীদের অভিবাদন জানানো রিকশাচালক মোহাম্মদ সুজন খানের দৃশ্য অবলম্বনেও একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রদর্শনী ও দর্শনার্থীদের সুবিধা
মূল প্রদর্শনী কক্ষের পাশাপাশি জাদুঘর প্রাঙ্গণে তথ্যচিত্র দেখানোর স্থান, প্রার্থনাকক্ষ, টিকিট কাউন্টার এবং স্যুভেনির শপের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীরা আন্দোলনবিষয়ক প্রকাশনা, স্মারক কিংবা অন্যান্য অনুমোদিত উপকরণ সংগ্রহের সুযোগ পেতে পারেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রবেশপথে যাচাই, নির্ধারিত দর্শনার্থী ধারণক্ষমতা এবং নির্দিষ্ট পথে প্রদর্শনী ঘুরে দেখার ব্যবস্থা করা হতে পারে। তবে টিকিটের মূল্য, সাপ্তাহিক বন্ধের দিন, দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকার সময় এবং অনলাইনে টিকিট পাওয়া যাবে কি না—এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত ঘোষণা এখনো অনুসরণ করা প্রয়োজন।
প্রকল্পের ব্যয় ও অর্থ ফেরত
জাদুঘরটির নির্মাণ, সংস্কার ও প্রদর্শনী তৈরির জন্য গণপূর্ত বিভাগ এবং জাতীয় জাদুঘরকে মোট প্রায় ১২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল বলে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১১০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে এবং অব্যবহৃত প্রায় ১২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। ২০২৬–২৭ অর্থবছরে জাদুঘরের পরিচালন ব্যয় হিসেবে আরও ১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এই ব্যয়ের মধ্যে ভবনের সংস্কার, বৈদ্যুতিক ও অবকাঠামোগত কাজ, গ্যালারি নির্মাণ, শিল্পকর্ম ও ভাস্কর্য, তথ্যচিত্র, অভ্যন্তরীণ সজ্জা, সরঞ্জাম এবং পরিচালন প্রস্তুতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ব্যয় ও ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
প্রকল্পটি দ্রুত শেষ করতে কিছু কাজ সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হয়েছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে স্বচ্ছতা, ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং ঠিকাদার নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে ভাস্কর্য, তথ্যচিত্র, আপ্যায়ন এবং অন্যান্য খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ প্রকাশিত হয়।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ—টিআইবি সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছিল। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করেছে, সরকারি অনুমোদন ও প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করেই কাজ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা দ্রুত প্রকল্প শেষ করার কারণে কিছু প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়ার কথা স্বীকার করলেও কাজগুলোকে অবৈধ বলে মানেননি। প্রকল্পের চূড়ান্ত নিরীক্ষা সম্পন্ন হলে ব্যয়সংক্রান্ত বিষয়গুলো আরও পরিষ্কার হবে।
সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে এসব বিষয়কে অভিযোগ, প্রশ্ন এবং কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হিসেবেই উল্লেখ করা প্রয়োজন; চূড়ান্ত নিরীক্ষা বা তদন্ত ছাড়া অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছে—এমন ভাষা ব্যবহার করা ঠিক হবে না।
জাদুঘর পরিচালনায় নতুন আইন
জাদুঘরটির প্রশাসনিক ও পরিচালন কাঠামো নির্ধারণে জাতীয় সংসদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন, ২০২৬’ পাস করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী জাদুঘরের জন্য একটি পরিচালনা পর্ষদ বা বোর্ড থাকবে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অথবা প্রতিমন্ত্রী বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং জাদুঘরের মহাপরিচালক সদস্যসচিব হিসেবে কাজ করবেন।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় পরবর্তী সময়ে ১৫ সদস্যের জাদুঘর বোর্ড পুনর্গঠন করেছে। এই বোর্ড জনবল, প্রশাসন, প্রদর্শনী নীতি, সংরক্ষণ, গবেষণা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
জাদুঘরটি শুরুতে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের একটি শাখা হিসেবে পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে আলাদা আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে এটিকে স্বতন্ত্রভাবে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জনবল নিয়োগ নিয়ে সমালোচনা
জাদুঘরের জন্য বিভিন্ন গ্রেডের ৬২টি পদে ৯৬ জনকে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রথম দিকে লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়। আবেদন করার জন্য সাত দিনের সময় দেওয়ায় নিয়োগের স্বচ্ছতা এবং সমান সুযোগ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
সরকারি চাকরির বিধিমালায় লিখিত পরীক্ষার কথা থাকলেও দ্রুত জাদুঘর চালুর যুক্তিতে তা শিথিল করা হয়েছিল বলে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। সমালোচনার মুখে পরে মৌখিক পরীক্ষার কার্যক্রম বাতিল করা হয়। স্থায়ী জনবল নিয়োগ শেষ না হওয়ায় আপাতত জাতীয় জাদুঘরের কর্মকর্তা এবং আউটসোর্সিংয়ের কর্মীদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ইতিহাস সংরক্ষণের পাশাপাশি গবেষণার সুযোগ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যতে শুধু দর্শনীয় স্থান নয়, গবেষণা ও নথি সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠতে পারে। আন্দোলনের সময়কার সরকারি নথি, আদালতের তথ্য, সংবাদ প্রতিবেদন, ব্যক্তিগত সাক্ষ্য, ছবি, ভিডিও এবং ভুক্তভোগী পরিবারের স্মৃতি নিয়মতান্ত্রিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে গবেষক, শিক্ষার্থী ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাস সম্পর্কে প্রাথমিক উৎস থেকে জানার সুযোগ পাবেন।
এক্ষেত্রে প্রদর্শনীতে উপস্থাপিত প্রতিটি তথ্যের উৎস, তারিখ, প্রেক্ষাপট এবং যাচাইপদ্ধতি স্পষ্ট রাখা গুরুত্বপূর্ণ। একই ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন সাক্ষ্য বা ব্যাখ্যা থাকলে সেগুলোও গবেষণার উপযোগীভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। ইতিহাস সংরক্ষণের প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাদুঘরের বিশ্বাসযোগ্যতা অনেকটাই নির্ভর করবে নির্ভুল নথিভুক্তকরণ, পেশাদার সংরক্ষণ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিচালনার ওপর।
গণভবনের নতুন অধ্যায়
গণভবন দীর্ঘদিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতীক ছিল। সেই স্থাপনাকে গণআন্দোলন, রাষ্ট্রীয় সহিংসতার অভিযোগ, নিহত ও আহত মানুষের স্মৃতি এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইতিহাস সংরক্ষণের স্থানে রূপান্তর করা প্রতীকীভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষের সামনে এখন বড় দায়িত্ব হলো—আবেগের পাশাপাশি প্রামাণ্য নথি, যাচাইকৃত তথ্য এবং পেশাদার জাদুঘর ব্যবস্থাপনার সমন্বয় করা। একই সঙ্গে প্রকল্পের অর্থব্যয়, জনবল নিয়োগ ও প্রদর্শনীর তথ্য নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আগামীকাল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হলে গণভবনের দীর্ঘ ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হবে। এক সময় যে ভবনের ভেতরের কার্যক্রম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল, সেই ভবনই এখন দর্শনার্থীদের সামনে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস ও গণআন্দোলনের স্মৃতি তুলে ধরবে।


