মক্কায় হামলার চেষ্টা, ‘মক্কা চুক্তি’ কার্যকরের সময় এসেছে: পাকিস্তান

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ১৭  সেপ্টেম্বর ২০২৬  

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার কাছাকাছি এলাকায় হুতি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে ড্রোন হামলার অপচেষ্টার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত বহুল আলোচিত ‘মক্কা চুক্তি’ কার্যকর করার এখনই উপযুক্ত সময় বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে প্রযোজ্য এবং রিয়াদের নিরাপত্তার স্বার্থে ইসলামাবাদ তাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব ও প্রতিশ্রুতি পালন করতে একবিন্দুও পিছপা হবে না। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের বিশেষ রাজনৈতিক টকশো ‘আজ শাহজেব খানজাদা কে সাথ’-এ লাইভ সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তার এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা বলার সময় তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।

সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ আরও বলেন যে, পবিত্র মক্কা ও মদিনার মতো সর্বশ্রেষ্ঠ পবিত্র স্থানগুলো রক্ষা করার জন্য আলাদা করে কোনো চুক্তি থাকার প্রয়োজন নেই, কারণ মুসলিম বিশ্বের এই পবিত্র ভূমির সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষা করা প্রতিটি মুসলিম রাষ্ট্রের, বিশেষ করে পাকিস্তানের নৈতিক ও ঈমানি কর্তব্য। তবে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে সম্পাদিত ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিটি মূলত এই তিন দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থেই প্রণীত হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি জানান যে, এই চুক্তির কার্যকারিতা ও প্রয়োগ নিয়ে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা নেই। এর আগে গত মঙ্গলবার সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় হুতিদের একটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন সফলভাবে ধ্বংস করার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। যদিও ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী পবিত্র নগরীতে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে তাদের অপারেশন কেবল সৌদি তেল স্থাপনা ও সামরিক লক্ষ্যবস্তু কেন্দ্রিক, তবুও এই ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ রিয়াদের সুরক্ষায় পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে একে জঘন্য ও ন্যক্কারজনক বলে অভিহিত করেছেন।

আঞ্চলিক উত্তেজনার পেছনের ভূরাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুতিদের পেছনে থাকা ইরানের ভূমিকার প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, রাষ্ট্র হিসেবে ইরান সচেতনভাবেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আরেকটি বড় সংঘাতের ক্ষেত্র বা যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইবে না, কারণ তেহরান ইতিমধ্যে আঞ্চলিক নানা সংকটে জড়িয়ে রয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে থাকা বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী অনেক সময় আনুষ্ঠানিক সরকারের সরাসরি অনুমোদন বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই নিজ স্বার্থে এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। সংকট নিরসনে কূটনীতি ও আলোচনার ওপর জোর দিয়ে খাজা আসিফ জানান যে, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে পাঠানো বার্তা ইতিমধ্যে তেহরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে পাকিস্তান এবং সংঘাত যাতে সমগ্র অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে ইসলামাবাদ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিরলস কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *