আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক স্মৃতিকথা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’


সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬  

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যক্রমে ঐতিহাসিক বিষয়বস্তু ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ও নির্মোহ ইতিহাস তুলে ধরার এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, আগামী শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকে নতুন অধ্যায় হিসেবে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বীর উত্তম জিয়াউর রহমানের লেখা বহুল আলোচিত নিবন্ধ ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে এই ঐতিহাসিক স্মৃতিকথার পাশাপাশি তাঁর হাতের লেখা একটি ঐতিহাসিক ডায়েরির ছবিও বইটিতে যুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)-এর সাম্প্রতিক এক সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত হয়েছে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, মহান মুক্তিযুদ্ধে যাঁদের যতখানি অবদান রয়েছে তা কোনো ধরনের রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন যে, এর মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম থেকে সূচনা হওয়া ঐতিহাসিক ‘উই রিভোল্ট’ ঘোষণা এবং কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার পেছনের চাক্ষুষ স্মৃতি সম্পর্কে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ ধারণা লাভ করতে পারবে। অতীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে যে একপাক্ষিক ইতিহাস চর্চার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, সরকারের এই নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি সেই মানসিকতার অবসান ঘটিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত জনযুদ্ধের ইতিহাস ফুটিয়ে তুলতে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।

প্রস্তাবিত এই পাঠ্য অন্তর্ভুক্তিতে ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের উত্তাল দিনগুলোতে চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর ষড়যন্ত্র মোকাবিলা, সশস্ত্র বিদ্রোহের প্রস্তুতি এবং কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ঐতিহাসিক ঘোষণার পুরো প্রেক্ষাপট অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নিবন্ধের মূল বর্ণনায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কীভাবে জাতির এক চরম ক্রান্তিলগ্নে ২৬ মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন এবং কালুরঘাট থেকে বিশ্ববাসীর কাছে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি জানিয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তি বা দলের কৃতিত্ব নয়—বরং জাতীয় এই অর্জনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং তাজউদ্দীন আহমেদের মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে পূর্ণাঙ্গ রূপে তুলে ধরার এই প্রয়াস শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *