সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ফুটবলে নিজের রূপকথার মতো পারফরম্যান্স অব্যাহত রেখে ক্যারিয়ারে আরও একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক ও নতুন শিরোপা যুক্ত করলেন ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসি। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ভোরে মার্কিন মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) চ্যাম্পিয়ন দল এবং মেক্সিকোর লিগা এমএক্স-এর চ্যাম্পিয়ন দলগুলোর বার্ষিক মর্যাদাপূর্ণ লড়াইয়ে ২-০ গোলের দারুণ জয় তুলে নিয়েছে ইন্টার মায়ামি। ফ্লোরিডার ন্যু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ফাইনালসুলভ ম্যাচে দলের হয়ে একটি চমৎকার গোল করার পাশাপাশি সতীর্থ কাসেমিরোকে দিয়ে অপর গোলটি করিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ইন্টার মায়ামির জার্সিতে মেসির ঝুলিতে যুক্ত হলো আরেকটি নতুন শিরোপা, যা তাঁর বর্ণিল ফুটবল ক্যারিয়ারের সামগ্রিক ৪৯তম ট্রফি হিসেবে রেকর্ড বইয়ে স্থান পেল।
ম্যাচের ২৪তম মিনিটে দীর্ঘদিনের আক্রমণভাগের বিশ্বস্ত সঙ্গী লুইস সুয়ারেজের নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়ে ইন্টার মায়ামির হয়ে নিজের শততম গোলের সোনালী মাইলফলক স্পর্শ করেন মেসি। এর আগে মেজর লিগ সকারে ন্যাশভিলের বিপক্ষে ম্যাচে একটি গোল করায় শতক ছোঁয়া থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে ছিলেন তিনি, যা ক্রুজ আজুলের বিপক্ষে এই ম্যাচে এসে পূর্ণ হলো। ইন্টার মায়ামির হয়ে মাত্র ১১৫টি ম্যাচ খেলে ১০০ গোল করার এই অনন্য কীর্তি গড়েছেন তিনি, যা তাঁর ক্যারিয়ারে ক্লাব বা জাতীয় দলের হয়ে দ্রুততম শততম গোলের রেকর্ড। এর আগে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার হয়ে এই মাইলফলকে পৌঁছাতে তাঁর ১৮৮ ম্যাচ এবং আর্জেন্টিনার জার্সিতে ১৭৪ ম্যাচ লেগেছিল। বর্তমান ম্যাচটি সহ সব ধরনের প্রতিযোগিতায় বিশ্বজুড়ে মেসির মোট গোলসংখ্যা এখন বেড়ে দাঁড়াল ৯২৯টিতে।
ম্যাচের শেষভাগে এসে ম্যাচের ৮১তম মিনিটে মেসির নিখুঁতভাবে নেওয়া কর্নার কিক থেকে হেড করে দলের জয় নিশ্চিত করেন কাসেমিরো, যা ইন্টার মায়ামির হয়ে আর্জেন্টাইন তারকার জাদুকরী পারফরম্যান্সের আরও একটি উজ্জ্বল প্রমাণ। উল্লেখ্য, ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই একের পর এক শিরোপা উপহার দিয়ে চলেছেন মেসি; ২০২৩ সালে লিগস কাপ জয়ের মধ্য দিয়ে ফ্লোরিডার ক্লাবটিতে তাঁর ট্রফির খাতা খুলেছিল। এরপর ক্লাবটি সাপোর্টার্স শিল্ড এবং রেকর্ড ৭৪ পয়েন্ট অর্জন করে এমএলএস কাপের শিরোপা নিজেদের করে নেয়। এবার আরও একটি মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি জয়ের মাধ্যমে ইন্টার মায়ামির ইতিহাসে সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করলেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই কিংবদন্তি।


