সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১ আগস্ট ২০২৬
শিশুদের টাইফয়েড জ্বর থেকে সুরক্ষিত রাখতে দেশের নিয়মিত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন বা টিসিভি। আজ শনিবার, ১ আগস্ট থেকে সারা দেশের সরকারি ইপিআই টিকাদানকেন্দ্রে বিনামূল্যে এ টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, ১৫ মাস বয়স পূর্ণ হওয়া প্রত্যেক শিশুকে এক ডোজ টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। দেশের সব স্থায়ী ও অস্থায়ী ইপিআই টিকাদানকেন্দ্রে নিয়মিত টিকাদান সেশনের মাধ্যমে শিশুরা এই টিকা পাবে।
স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, টিসিভি টিকা একই সেশনে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধী এমআর-২ টিকার সঙ্গে দেওয়া যাবে। অর্থাৎ, ১৫ মাস বয়সী শিশুকে নির্ধারিত দিনে এমআর-২ এবং টাইফয়েডের টিকা একসঙ্গে দেওয়া সম্ভব হবে। তবে দুইটি টিকা শিশুর শরীরের পৃথক স্থানে প্রয়োগ করা হবে এবং টিকা দেওয়ার তথ্য সংশ্লিষ্ট কার্ড ও নিবন্ধনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
নতুন টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ১৫ মাস বয়সী টিকা পাওয়ার উপযুক্ত শিশুদের শনাক্ত করবেন। পাশাপাশি কেন্দ্রভিত্তিক টিকার প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ এবং নির্ধারিত সেশনে শিশুদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের অবহিত করবেন।
২০২৫ সালে বাংলাদেশে জাতীয়ভাবে টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়েছিল। ওই কর্মসূচিতে ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের এক ডোজ করে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মাসব্যাপী ওই ক্যাম্পেইনে প্রায় ৪ কোটি ২৪ লাখ ৭০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয় এবং জাতীয় লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৭ শতাংশ অর্জিত হয়।
জাতীয় ক্যাম্পেইন সফলভাবে শেষ হওয়ার পর টিকাদানবিষয়ক কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে টিসিভিকে নিয়মিত ইপিআই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিবছর নতুন করে ১৫ মাস বয়সে পৌঁছানো শিশুরা সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে টাইফয়েডের টিকা পাওয়ার সুযোগ পাবে।
টাইফয়েড একটি গুরুতর সংক্রামক রোগ, যা সাধারণত টাইফয়েডের জীবাণুতে দূষিত খাবার বা পানি গ্রহণের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তির দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, শারীরিক দুর্বলতা, মাথাব্যথা ও পেটের সমস্যাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যথাসময়ে চিকিৎসা না হলে রোগটি গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে টাইফয়েডের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য। একই সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী টাইফয়েড জীবাণুর বিস্তার জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে। টিকাদানের পাশাপাশি নিরাপদ পানি পান, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং খাবার প্রস্তুতের সময় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করাও রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য বিভাগ অভিভাবকদের শিশুর টিকাদান কার্ড দেখে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নিকটবর্তী সরকারি ইপিআই কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। কোনো শিশুর টিকার তারিখ বা বয়স নিয়ে বিভ্রান্তি থাকলে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী, কমিউনিটি ক্লিনিক অথবা সংশ্লিষ্ট টিকাদানকেন্দ্র থেকে তথ্য নেওয়া যাবে।
নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে টাইফয়েডের টিকা যুক্ত হওয়াকে শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের শিশুদের টাইফয়েডজনিত অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি এবং গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


