শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ভার্চুয়াল বক্তব্য: ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলল ঢাকা

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৪ আগস্ট ২০২৬

ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৫ আগস্ট একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দিতে পারেন—এমন সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ভারত সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎমুখী, পারস্পরিক সহযোগিতামূলক ও শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হোক—এটি বাংলাদেশ চায় না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বক্তব্য নিয়ে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত বিষয়টিকে সমর্থন করে কি না, সে অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ যেমন ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন চায়, ভারতও একইভাবে সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে আগ্রহী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তবে আলোচিত ৫ আগস্টের অনুষ্ঠানটি ভারত সরকারের উদ্যোগে আয়োজন করা হচ্ছে—এমন কোনো তথ্য বাংলাদেশের কাছে নেই বলে জানান শামা ওবায়েদ ইসলাম। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন মনে করলে বাংলাদেশ কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানের আগেই বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানাবে বা ব্যাখ্যা চাইবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আবারও বলেন, এটি ভারত সরকারের আয়োজিত কোনো অনুষ্ঠান নয়। তাই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ভার্চুয়াল বক্তব্যকে ঘিরে বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে একটি পরিষ্কার অবস্থান প্রত্যাশা করছে। তবে অনুষ্ঠানটির বিষয়ে ভারত সরকার কিংবা সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে আগেও মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে—পলাতক কিংবা দণ্ডিত কোনো ব্যক্তি যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের রাজনীতিকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারেন।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভিযোগের মুখোমুখি কোনো পলাতক ব্যক্তি ভারতের মাটি থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন—এমনটি নয়াদিল্লিও প্রত্যাশা করে না বলে ঢাকা বুঝতে পেরেছে।

এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দুই দেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে কি না—এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকলেও বাংলাদেশ তা চায় না। বরং পারস্পরিক সম্মান, জাতীয় স্বার্থ এবং সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

সম্প্রতি বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে তাঁর সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে বলেও জানান শামা ওবায়েদ ইসলাম। আলোচনায় উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের সামগ্রিক পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে ভারত, চীনসহ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ, বাস্তবভিত্তিক ও পারস্পরিক স্বার্থনির্ভর সম্পর্ক বজায় রাখবে ঢাকা।

বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে বাংলাদেশ আগ্রহী। শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ভার্চুয়াল বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিও বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে সরকারের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *