গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ১১ দলের দেশব্যাপী কর্মসূচি, ৫ আগস্ট ঢাকায় বড় সমাবেশ

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৪ আগস্ট ২০২৬

গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন করে রাজপথের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় বিরোধী রাজনৈতিক জোট। ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার, ৫ আগস্ট রাজধানী ঢাকাসহ দেশের মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মিছিল এবং সমাবেশ আয়োজন করা হবে। একই দিন রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে কেন্দ্রীয় সমাবেশ থেকে জোটের পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শফিকুর রহমান। জোটের বিভিন্ন শরিক দলের শীর্ষ ও জ্যেষ্ঠ নেতারা এতে অংশ নেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতাদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। ঢাকা স্ট্রিমের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানি এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের উপস্থিতির কথাও বলা হয়েছে।

জোটের বৈঠকে মূলত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই জাতীয় সনদের কার্যকর প্রয়োগ এবং দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জোট নেতারা মনে করছেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে মতামত দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। এই দাবি সামনে রেখেই রাজধানী থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সমন্বিত কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই বক্তব্য জোটের রাজনৈতিক অবস্থান; সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আলাদা ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা সংবাদে যুক্ত করা প্রয়োজন।

ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫ আগস্ট দেশের মহানগর, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর কেন্দ্রীয় সমাবেশটি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে আয়োজন করা হবে। ওই সমাবেশে জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন এবং চলমান দাবিগুলো আদায়ে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করবেন। দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, সমাবেশটি সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়ার কথা; অন্যদিকে ঢাকা স্ট্রিম সকাল ১০টার কথা জানিয়েছে। ফলে উপস্থিত হওয়ার আগে আয়োজকদের সর্বশেষ ঘোষণা যাচাই করা প্রয়োজন।

জোটের কর্মসূচি শুধু গণভোট বা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, দেশব্যাপী গ্যাসসংকট, বিদ্যুতের অতিরিক্ত বা জোটের ভাষায় ‘ভৌতিক বিল’ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগও তাদের কর্মসূচির অন্যতম বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে। বৈঠকে এসব ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের কাছ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ ও স্পষ্ট বক্তব্য দাবি করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট দেশের সব মহানগর ও জেলা সদরে গ্যাস এবং বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোট। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, গ্যাস সরবরাহে সংকট, বিদ্যুৎ বিল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জোটের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

একই দিন সকাল ১১টায় রাজধানীর মুক্তাঙ্গনেও আলাদা অবস্থান কর্মসূচি আয়োজনের কথা রয়েছে। ঢাকা স্ট্রিম জানিয়েছে, কর্মসূচি শেষে সচিবালয়ে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হবে। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোট নেতারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের কাছ থেকে দ্রব্যমূল্য, গ্যাস, বিদ্যুৎ বিল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য চাইবেন।

এর আগে ১১ দলীয় জোট ৫ আগস্ট রাজধানীতে সমাবেশ করার প্রাথমিক ঘোষণা দিয়েছিল। ৩০ জুলাই জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকের পর জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ জানিয়েছিলেন, জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটে দেওয়া জনমতের বাস্তবায়নের দাবিতে সমাবেশ আয়োজন করা হবে। তখন ৩ আগস্ট জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে সমাবেশের সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কথা জানানো হয়েছিল।

জোটটির আগের পর্যায়ের কর্মসূচির মধ্যে বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে সমাবেশ ছিল। ২৫ জুলাই সিলেটে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় সমাবেশের মধ্য দিয়ে আগের ধাপের কর্মসূচি শেষ হয়েছে বলে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এরপর ঢাকার ৫ আগস্টের সমাবেশকে নতুন পর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মসূচির সূচনা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

১১ দলীয় জোটের নেতারা ঢাকার সমাবেশ থেকে তাদের ভাষায় ‘চূড়ান্ত আন্দোলনের’ পরবর্তী ধাপ ঘোষণা করার কথা জানিয়েছেন। তবে সেই কর্মসূচির ধরন কী হবে, কতদিন চলবে বা সরকারের প্রতি নতুন কোনো সময়সীমা দেওয়া হবে কি না—তা আগাম জানানো হয়নি। ৫ আগস্টের সমাবেশে এসব বিষয় পরিষ্কার হতে পারে।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কর্মসূচিটি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ জোটটি একই সঙ্গে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংস্কার, গণভোটের ফল বাস্তবায়ন এবং জনজীবনের অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো সামনে আনছে। এর ফলে ৫ আগস্টের সমাবেশ শুধু দলীয় কর্মসূচি নয়, বরং জোটের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল এবং সরকারের ওপর চাপ তৈরির পরবর্তী ধাপের ইঙ্গিত দিতে পারে—এটি সংবাদসূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।

সমাবেশ ঘিরে বায়তুল মোকাররম, পল্টন, গুলিস্তান ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচলে সাময়িক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সড়ক নির্দেশনা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো রাস্তা বন্ধ থাকবে—এমন তথ্য নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।

সব মিলিয়ে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি সামনে রেখে ১১ দলীয় জোটের ৫ ও ৬ আগস্টের কর্মসূচি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বুধবারের কেন্দ্রীয় সমাবেশে জোটের নেতারা কী ধরনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন এবং সরকার এ বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া জানায়—সেদিকেই এখন রাজনৈতিক মহলের নজর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *