সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদ্রাসার ছাদে খেলার সময় ১১ হাজার ভোল্টের উচ্চ বাতি (হাই-ভোল্টেজ) বৈদ্যুতিক লাইনের সংস্পর্শে দগ্ধ হওয়া পাঁচ ছাত্রীর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দু’জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার আতিয়া (১১) নামের এক ছাত্রী মারা যাওয়ার পর, আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মারা যায় ১৪ বছর বয়সী জিদনী। মর্মান্তিক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ সকালে মারা যাওয়া জিদনীর শরীরের প্রায় ৮২ শতাংশ ইলেকট্রিক ফ্ল্যাশ বার্নে দগ্ধ হয়েছিল। এর আগে মঙ্গলবার মৃত্যুবরণকারী ১১ বছরের আতিয়ার শরীরের দগ্ধের পরিমাণ ছিল ৪৫ শতাংশ। এছাড়া এই দুর্ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হওয়া ১৩ বছর বয়সী লামিয়া নামের আরও এক ছাত্রী ৫৫ শতাংশ বার্ন নিয়ে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে তুলনামূলক কম দগ্ধ হওয়া অপর দুই ছাত্রী আছিয়া ও সুমাইয়ার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল হওয়ায় তাদের আইসিইউ থেকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার কাশিপুর হাজীপাড়া এলাকার মাহেলা খাতুন মহিলা মাদ্রাসায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ছুটির দিনে বা অবসর সময়ে মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রীরা ছাদে খেলাধুলা করার সময় তাদের কাছে থাকা পাতাযুক্ত একটি আখের কাঠি অসাবধানতাবশত ছাদের পাশ দিয়ে যাওয়া ১১ হাজার ভোল্টের উচ্চ বাতি বৈদ্যুতিক লাইনের সংস্পর্শে চলে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে বৈদ্যুতিক স্পার্ক ও আগুন ধরে মুহূর্তেই সেখানে থাকা পাঁচ ছাত্রী মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ও পরে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইনের এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান নিয়ে ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।


