সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০২৬
উপশিরোনাম: এলএনজি পরিবহনকারী পুরোনো জাহাজ কাটার সময় দুর্ঘটনা; নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত আরও কয়েকজন চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকায় অবস্থিত ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সর্বশেষ মারা যাওয়া শ্রমিকের নাম মতিউর রহমান। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম তাঁর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত অন্য শ্রমিকেরা হলেন সানি জলদাস, পলাশ জলদাস, হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ মনসুর, নাসির উদ্দিন, আবদুল আলীম, রানা মিয়া ও খোকন মিয়া। নিহত মনসুর ও নাসির আপন ভাই বলে জানা গেছে।নয়জনের পরিচয় ও মৃতের সর্বশেষ সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ইয়ার্ডে থাকা পুরোনো একটি এলএনজি পরিবহনকারী জাহাজ ভাঙার কাজ চলছিল। জাহাজের একটি বদ্ধ অংশে প্রবেশের পর কয়েকজন শ্রমিক বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। তাঁদের উদ্ধার করতে গিয়ে আরও কয়েকজন একইভাবে আক্রান্ত হন।
ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাজটির ভেতরে কার্বন মনোক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড বা অন্য কোনো বিষাক্ত গ্যাস জমে থাকতে পারে। তবে কোন গ্যাস এবং কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
ঘটনার পর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনও পাঁচ সদস্যের আলাদা তদন্ত কমিটি করেছে। সরকার নিরাপত্তা ও কমপ্লায়েন্সে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। জানিয়েছে, নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ।
এদিকে দুর্ঘটনার আগেই কারখানাটির নিরাপত্তাব্যবস্থায় ত্রুটি শনাক্ত করেছিল কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। একাধিক নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করায় গত ১৫ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলাও করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে।
জাহাজের বদ্ধ স্থানে শ্রমিকদের প্রবেশের আগে গ্যাস পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, উপযুক্ত মাস্ক ও সুরক্ষাসামগ্রী দেওয়া হয়েছিল কি না এবং জরুরি উদ্ধার ও চিকিৎসাব্যবস্থা প্রস্তুত ছিল কি না—তদন্তে এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে।


