গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অবনতি, লোডশেডিং উঠেছিল ৩,৫৯২ মেগাওয়াটে

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৬

উপশিরোনাম: গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত; সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে গ্রামাঞ্চলের মানুষ

দেশজুড়ে চলমান গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় অনেক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। একই সময়ে গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধান আরও বড় হয়েছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১১ আগস্ট রাত ১২টার দিকে দেশে মোট লোডশেডিং দাঁড়ায় ৩,৫৯২ মেগাওয়াটে। ওই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ৫২৩ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ করা সম্ভব হয় ১৩ হাজার ৯৩১ মেগাওয়াট। একই সময়ে পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকাতেই ঘাটতি ছিল প্রায় ৩,০৩৪ মেগাওয়াট।

১২ আগস্ট পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও বিকেল ৩টার দিকে আবার লোডশেডিং বেড়ে ৩,৩৮২ মেগাওয়াটে পৌঁছায়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তা কমে ১,৩১৯ মেগাওয়াটে নেমে আসে। বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সন্ধ্যার সর্বোচ্চ চাহিদার সময় তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানোর কারণে সাময়িকভাবে ঘাটতি কমানো সম্ভব হচ্ছে।

বর্তমান সংকটের বড় কারণ হিসেবে গ্যাসের স্বল্পতাকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বুধবার দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ২০৩ কোটি ঘনফুট, যেখানে দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকেও গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বিদ্যুৎ সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে ঢাকার বাইরের গ্রামাঞ্চলে। কোনো কোনো এলাকায় দৈনিক ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার খবর পাওয়া গেছে। দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে কৃষিকাজ, ক্ষুদ্র ব্যবসা, দোকানপাট, ওয়ার্কশপ ও অনলাইনভিত্তিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরাও বাড়তি দুর্ভোগে পড়েছেন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সরকার পরিস্থিতি উন্নয়নে কাজ করছে, তবে জ্বালানি সংকট পুরোপুরি কবে কাটবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে এলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে এবং পর্যায়ক্রমে লোডশেডিংয়ের চাপও কমতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *