সংবাদ সারাদিন ডেস্ক | মানিকগঞ্জ | ২ নভেম্বর ২০২৬
মানিকগঞ্জে নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি ভর্তুকিমূল্যে চাল ও আটা বিক্রির ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) ট্রাকসেল কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। একই দিনে জেলার সদর উপজেলায় ৯ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এমপি।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে মানিকগঞ্জ পৌর এলাকায় ওএমএস ট্রাকসেল কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন খাদ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া এবং দেশের কোনো মানুষ যেন অনাহারে না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই সরকার খাদ্যসহায়তা কার্যক্রমের পরিধি বাড়াচ্ছে।
নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বাড়ছে খাদ্যসহায়তা
মানিকগঞ্জ শহরে নতুন করে পাঁচটি ওএমএস বিক্রয় পয়েন্ট যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ সরকারি ভর্তুকিমূল্যে চাল ও আটা কেনার বাড়তি সুযোগ পাবেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। তাই খাদ্য বিতরণ কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। সরকারি খাদ্যসহায়তা যাতে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছায়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার সাধারণ মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
৯ কোটি ১১ লাখ টাকায় তিনটি সড়কের উন্নয়ন
ওএমএস কার্যক্রম উদ্বোধনের পাশাপাশি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন খাদ্যমন্ত্রী।
প্রকল্পের আওতায় বেতিলা-মিতরা ধলেশ্বরী ব্রিজ হয়ে মকিমপুর জিপিএস ও জে কে হাইস্কুল সড়কের ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার অংশ উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
এ ছাড়া পুবাইল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সৈয়দপুর ফেরিঘাট পর্যন্ত ১ দশমিক ৪ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়নে ব্যয় হবে ২ কোটি টাকা।
অন্যদিকে বেংরই ইসমাইলের বাড়ি থেকে মাকাই ঘোষবাড়ি পর্যন্ত ১ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়নকাজে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
সব মিলিয়ে তিনটি সড়কের মোট ৬ দশমিক ২৫ কিলোমিটার অংশের উন্নয়নে ব্যয় হবে ৯ কোটি ১১ লাখ টাকা।
সড়কগুলোর উন্নয়ন সম্পন্ন হলে স্থানীয় জনগণের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
উন্নয়নকাজের মান নিশ্চিত করতে নির্দেশনা
সড়ক উন্নয়নকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের অর্থ। তাই প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
কেবল প্রকল্পের কাজ শেষ করাই যথেষ্ট নয়; নির্মাণকাজ যেন টেকসই হয় এবং দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষ তার সুফল ভোগ করতে পারেন, সেটিও নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
কাজের মানে কোনো ধরনের অসংগতি বা অনিয়ম দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে স্থানীয় জনগণের প্রতিও আহ্বান জানান খাদ্যমন্ত্রী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
জাতীয় যুব দিবসে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের আহ্বান
এর আগে রোববার সকালে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
পরে তিনি র্যালিতে অংশ নেন এবং যুব উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য, ব্যবসায়িক উদ্যোগ এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজ দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তরুণদের মেধা, সৃজনশীলতা ও কর্মক্ষমতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।
তিনি তরুণদের প্রশিক্ষণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে গুরুত্ব
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে তরুণদের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই।
বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তিকে ইতিবাচক এবং সৃজনশীল কাজে ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পাশাপাশি যুব উদ্যোক্তা তৈরিতে ঋণ, অনুদান, প্রশিক্ষণ এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, তরুণদের কেবল চাকরির ওপর নির্ভরশীল না থেকে নিজেদের উদ্যোগে কর্মসংস্থান তৈরিতে এগিয়ে আসতে হবে। এতে ব্যক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যারা
জাতীয় যুব দিবসের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম এবং সিভিল সার্জন ডা. আইভী ফেরদৌস।
স্বাগত বক্তব্য দেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের উপপরিচালক ড. মো. শহিদুল ইসলাম।
এ ছাড়া জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, যুব উদ্যোক্তা, প্রশিক্ষণার্থী, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মানিকগঞ্জে একই দিনে খাদ্যসহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের জীবনমান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


