‘শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত অস্থিরতার চেষ্টা চলতে পারে’: তথ্য উপদেষ্টা

Table of content

Table of content

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক | ঢাকা | ৩ নভেম্বর ২০২৬

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে এসব চেষ্টা প্রতিহত করতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে বড় ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারবে বলে তিনি মনে করেন না। তবে দলটির কাছে বিপুল অর্থ রয়েছে উল্লেখ করে বিভিন্ন স্থানে নাশকতার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে অস্থিরতার আশঙ্কা

আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা এবং সাম্প্রতিক অস্থিরতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টিকে শুধু ডিসেম্বর মাসের সঙ্গে যুক্ত করে দেখার সুযোগ নেই।

তাঁর মতে, শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে সরকার এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি শেখ হাসিনার অতীত বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেন।

তবে ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে কোনো নির্দিষ্ট নাশকতার পরিকল্পনা বা শেখ হাসিনার সরাসরি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়নি।

শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে ডিসেম্বরের সংযোগ দেখছেন না

চলমান পোশাকশ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে ডিসেম্বরকেন্দ্রিক রাজনৈতিক তৎপরতার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের সঙ্গে ডিসেম্বরের কোনো সরাসরি সংযোগ রয়েছে বলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন না।

একই সঙ্গে শ্রমিকদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে অন্য কোনো পক্ষ সহিংসতা বা নাশকতার চেষ্টা করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে সাধারণ শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে সহিংসতার অভিযোগকে এক করে দেখা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তথ্য উপদেষ্টা।

শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কথা স্বীকার

পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে শ্রমিকদের দৈনন্দিন ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের জীবন কঠিন হয়ে উঠছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

তথ্য উপদেষ্টা জানান, সরকার শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।

তাঁর প্রত্যাশা, মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে শ্রমিকদের দাবি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

পোশাকশিল্পে সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছেন পোশাকশ্রমিকরা।

বর্তমান ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

বিক্ষোভ চলাকালে কয়েকটি স্থানে সড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ এবং কারখানার উৎপাদন বন্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এসব সহিংসতার পেছনে বহিরাগত ও রাজনৈতিক পক্ষের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং পৃথক ঘটনায় কারা দায়ী, তা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির পরিকল্পনা

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ব্যয় এবং ভর্তুকির চাপ নিয়েও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।

তবে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য, আমদানি ব্যয় এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপের কারণে দীর্ঘমেয়াদে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি অব্যাহত রাখা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।

সরকারকে একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ বরাদ্দ দিতে হচ্ছে। ফলে সীমিত সম্পদের মধ্যে ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের অবস্থান

শ্রমিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও বক্তব্য দেন ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। তবে বলপ্রয়োগ হতে হবে আইনসম্মত এবং পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্ভোগ যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সরকারের প্রত্যাশা, নতুন মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে আলোচনা শুরু হলে পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতাও কমে আসবে।

অন্যদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক রাখা হয়েছে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা।

তথ্যসূত্র: তথ্য উপদেষ্টার সংবাদ সম্মেলনসংক্রান্ত প্রতিবেদন, জাগো নিউজ, বাসস ও সমসাময়িক সংবাদসূত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *