সংবাদ সারাদিন ডেস্ক | ঢাকা | ৩ নভেম্বর ২০২৬
নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে সরকার বিরোধীদলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ে বিরোধীদলের আন্দোলন ও প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
এর আগে বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় প্রায় এক মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।
কারামুক্তির পর তিনি জামায়াত আমিরের বাসভবনে গেলে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান দলের শীর্ষ নেতারা।
সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতা আড়ালের অভিযোগ
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. শফিকুর রহমান সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, নিজেদের ব্যর্থতা সমাধানের পরিবর্তে সরকার বিরোধীদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে।
তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যর্থতার দায় বিরোধীদলের ওপর চাপিয়ে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
জামায়াত আমির বলেন, সরকারের উচিত বিরোধীদলের চরিত্রহননের চেষ্টা বাদ দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালনে মনোযোগ দেওয়া।
তিনি আরও দাবি করেন, বিরোধীদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতার দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার নিয়েও প্রশ্ন
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার ও কারাবাসের বিষয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াত আমির।
তাঁর অভিযোগ, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
তিনি এ ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ জনগণের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা দেয়।
তবে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে করা মামলাটি মিথ্যা কি না, তা আদালতে চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি।
এক মাস পর জামিনে মুক্তি
মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।
কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার গোলাম ফারুক তাঁর মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কারাগারের সামনে উপস্থিত জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
পরে তাঁকে নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে যান দলের নেতারা।
বিমানবন্দরের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আখতারুজ্জামান
গত ১ অক্টোবর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি ব্যবস্থাপনা নিয়ে যাত্রীদের অসন্তোষের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি অসদাচরণ করেন।
পরদিন, ২ অক্টোবর, রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
পরে আদালতে হাজির করা হলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
হাইকোর্টের জামিন বহাল
আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদনের শুনানি শেষে ১ নভেম্বর হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেন।
তবে ওই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে।
সোমবার (২ নভেম্বর) চেম্বার আদালত হাইকোর্টের জামিন আদেশে কোনো হস্তক্ষেপ না করায় তাঁর মুক্তির পথ উন্মুক্ত হয়।
পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মঙ্গলবার সকালে তাঁকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
জনগণের অধিকার আদায়ে সরব থাকার ঘোষণা
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিরোধীদল প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে।
তিনি জানান, কোনো ধরনের বাধা কিংবা রাজনৈতিক চাপের কারণে জনগণের অধিকার নিয়ে কথা বলা বন্ধ করবে না তাঁর দল।
অন্যদিকে কারামুক্তির পর আখতারুজ্জামানও সাংবাদিকদের কাছে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
তিনি দাবি করেন, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের পক্ষে কথা বলার কারণেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
তবে মামলায় সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
এদিকে জামায়াত আমিরের সর্বশেষ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে রাজনৈতিক সমালোচনা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন, প্রথম আলো, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ও সমসাময়িক সংবাদমাধ্যম।


