আন্তর্জাতিক ডেস্ক
-রাসেল রানা
পোল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে ঘটা এক বিরল ও ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনায় পুরো দেশ শোকস্তব্ধ ও আতঙ্কিত। এই ঘটনার পর দেশটিতে কয়েক দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, এই হামলার পেছনে চরম ডানপন্থী মতাদর্শ কাজ করেছে।
শনিবার পোল্যান্ডের ক্রাকোভ শহরের ঐতিহাসিক প্রধান চত্বরে এক বন্দুকধারী নির্বিচারে গুলি চালালে অন্তত ছয়জন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৬ জন।
পরবর্তীতে, ক্রাকোভ থেকে প্রায় ১২০ মাইল উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত ওস্ত্রোভিয়েৎস শ্ভেন্তোক্রিশকি শহরে সন্দেহভাজন ব্যক্তির বাড়ি থেকে আরও তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহতরা হলেন হামলাকারীর বোন, মা ও বাবা।
কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে তদন্ত করছে। অত্যন্ত কঠোর বন্দুক আইন থাকা সত্ত্বেও ইউরোপের এই দেশটিতে এমন গণ-গুলিবর্ষণের ঘটনা মানুষের মনে গভীর ভয়ের সৃষ্টি করেছে। পোল্যান্ডের অন্যতম প্রধান দৈনিক পত্রিকা ‘জেচপোসপোলিটা’ (Rzeczpospolita) এই হামলাকে এমন এক সতর্কবার্তা হিসেবে অভিহিত করেছে, যা “পোল্যান্ডকে একটি নিরাপদ দ্বীপ হিসেবে গণ্য করার যুগের নিষ্ঠুর সমাপ্তি ঘটিয়েছে।”
ক্রাকোভ পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার দিকে (পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ৯টা) গুলিবর্ষণের খবর আসতে শুরু করে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি গাড়ি চালিয়ে শহরের প্রধান বাজার চত্বরে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন। এতে চার নারী ও দুই পুরুষ নিহত হন।
পোলিশ সংবাদমাধ্যম ‘টিভিএন২৪’ (TVN24)-কে পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর কাতারজিনা সিসলো জানান, হামলাকারী সামরিক ধাঁচের পোশাক পরেছিলেন এবং “সামরিক অস্ত্র” ব্যবহার করেছিলেন। সিসলো আরও জানান, হামলাকারীর গাড়ি থেকে “প্রচুর অস্ত্র ও গোলাবারুদ” উদ্ধার করা হয়েছে।
সূত্র: সিএনএন


