সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
উয়েফা নেশনস লিগের গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডকে তাদেরই ঘরের মাঠে কাঁদাল বর্তমান বিশ্ব ও ইউরোপ সেরা স্পেন। লন্ডনের ঐতিহাসিক ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে স্বাগতিক থ্রি লাইন্সদের ৩-২ গোলে পরাজিত করে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ল লুইস ডে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। এই জয়ের ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চে নিজেদের দীর্ঘ অপরাজিত থাকার রেকর্ডটিকে আরও সমৃদ্ধ করল স্প্যানিশরা।
ম্যাচের শুরুতেই বড় ধরনের এক ভুল করে বসে ইংলিশ রক্ষণভাগ। খেলার বয়স তখন মাত্র দুই মিনিট; ডিফেন্ডার মার্ক গেহির খামখেয়ালি পাস কাজে লাগিয়ে বল কেড়ে নেন স্পেনের তরুণ বিস্ময় লামিনে ইয়ামাল। দারুণ এক শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে স্কোরশিটে নাম লেখান বার্সেলোনার এই উইঙ্গার। এরপর অষ্টম মিনিটে ফেরান তোরেসের আরও একটি শট জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন রেফারি। প্রথমার্ধের শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা। ৩৬ মিনিটে মিডফিল্ডার জুড বেলিংহামের বাড়িয়ে দেওয়া পাস ডি-বক্সের বাইরে ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন স্প্যানিশ ডিফেন্ডাররা, সুযোগ বুঝে দুর্দান্ত শটে সমতা ফেরান অ্যান্থনি গর্ডন। এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ৪০ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় ইংলিশরা। নিকো ও’রাইলির বাড়ানো ক্রস থেকে হেডের মাধ্যমে বল জালে পাঠান দলের প্রাণভ্রোমরা হ্যারি কেইন। ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়ার গায়ে লেগে বল জালে জড়ালেও এটি ছিল দেশের জার্সিতে কেইনের ১২৩ ম্যাচে ৮৬তম ঐতিহাসিক গোল। ফলে ১-২ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যেতে বাধ্য হয় স্প্যানিশরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট চলে আসে। ৫১ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতরে ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহামকে ফাউল করে বসেন স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি। ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু স্পট কিক থেকে গোল করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন হ্যারি কেইন; তার নেওয়া জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। কেইনের এই পেনাল্টি মিসের খেসারত দ্রুতই চুকিয়ে দিতে হয় স্বাগতিকদের। ৫৫ মিনিটে কৌশলগত পরিবর্তনে মাঠে নামেন স্পেনের দুই বদলি খেলোয়াড় আলেক্স বায়েনা ও মিকেল ওয়ারজাবাল। মাঠে নামার পাঁচ মিনিটের মাথাতেই দানি ওলমোর পাস থেকে চমৎকার এক শটে ম্যাচে ২-২ সমতা ফিরিয়ে আনেন বায়েনা। এরপর ম্যাচের ৭৫ মিনিটে বায়েনার বাড়ানো নিখুঁত পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক জেমস ট্রাফোর্ডকে বোকা বানিয়ে বিজয়ী গোলটি করেন মিকেল ওয়ারজাবাল। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোলের দেখা না মেলায় ৩-২ গোলের রোমাঞ্চকর জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকার অবিশ্বাস্য রেকর্ড ধরে রাখল স্পেন।
এদিকে, একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের মুখোমুখি হয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ম্যাচটিতে চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের দুর্দান্ত সূচনা করেছে ক্রোয়াটরা। ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবে শেষ হলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে (৪৭ মিনিটে) দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন ৪১ বছর বয়সী অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ও অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। ৫৪ মিনিটে অ্যাডাম কারাবেচ গোল করে চেকদের ম্যাচে ফিরিয়ে আনলেও, ম্যাচের ৭৭ মিনিটে বিজয়ী গোলটি করে ক্রোয়েশিয়ার পুরো তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করেন বদলি হিসেবে নামা মারিও পাসালিচ।


