সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদৃঢ় নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর থেকেই দেশ পুনর্গঠন এবং সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক সংস্কারের কাজ অত্যন্ত গতিশীলভাবে এগিয়ে চলেছে, এবং এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের সম্পূর্ণ অনুকূল ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করেছে বলে জোরালো মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, এখন থেকে দেশ আর কেবল মেধা পাচার বা ‘ব্রেইন ড্রেইন’ দেখতে চায় না, বরং এর পরিবর্তে মেধা ও অভিজ্ঞতার এক বিপরীতমুখী প্রবাহ বা ‘রিভার্স ড্রেইন’ নিশ্চিত করতে চায়, যার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা আমাদের দক্ষ প্রবাসীরা স্বদেশে ফিরে এসে দেশ গঠনে সরাসরি অবদান রাখবেন। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়া বিএনপি এবং এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই উদাত্ত আহ্বান জানান।
উপস্থিত প্রবাসী উদ্যোক্তা, সফল ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন যে, মালয়েশিয়াভিত্তিক শক্তিশালী বাংলাদেশী ব্যবসায়ী সমাজ ও তরুণ উদ্যোক্তারা যেন দেশের এই নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শরিক হয়ে তাদের স্ব স্ব বিনিয়োগ বাংলাদেশে আরও প্রসারিত করেন, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও নীতিগত সহায়তা প্রদান করা হবে। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১৫ লাখেরও বেশি বাংলাদেশী অত্যন্ত পরিশ্রমের সঙ্গে কর্মরত রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে যেমন সাধারণ অদক্ষ শ্রমিক রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন উচুমানের শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তিবিদ, চিকিৎসক, উদ্যোক্তা, গবেষক, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী, যাঁদের অর্জিত সুদীর্ঘ জ্ঞান ও পেশাগত অভিজ্ঞতা দেশের বর্তমান উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বহুলাংশে বেগবান করতে পারে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী উদ্যোগেই মধ্যপ্রাচ্যে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের মাধ্যমে মূলত আমাদের বৈদেশিক জনশক্তি রপ্তানির সোনালী যাত্রা শুরু হয়েছিল স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন যে, আজ বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এক কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশীর কঠোর পরিশ্রম ও তাঁদের পাঠানো বৈদেশিক রেমিট্যান্স আমাদের জাতীয় অর্থনীতিকে সচল রাখার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। প্রবাসীদের এই অক্লান্ত শ্রম ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এবং তাঁদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম পবিত্র দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি জানান যে, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে প্রবাসীদের বহুল কাঙ্ক্ষিত ভোটাধিকার নিশ্চিত করাসহ তাঁদের কল্যাণে নানামুখী জনহিতকর উদ্যোগ গ্রহণের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করা হয়েছে।
পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ উদ্যোগে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সঙ্গে মাতৃভূমির সম্পর্ক আরও বেশি সুদৃঢ় ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আগামী ২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকেই এই কার্ডের পাইলট কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরগুলোতে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের সব ধরনের হয়রানি চিরতরে বন্ধ করে তাঁদের জন্য অত্যন্ত সহজ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ সেবা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন যে, প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমানবন্দরসমূহে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চেক-ইন ও বোর্ডিং সুবিধা এবং সুপরিসর বলাকা লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ প্রদানের বিষয়েও ইতিমধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রবাসীদের জন্য পৃথক আবাসন ও লাভজনক বিনিয়োগের বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকার একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যা প্রাথমিকভাবে ঐতিহাসিক সিলেট থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সম্প্রসারণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদূরপ্রসারী ভিশন অনুযায়ী আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও গতিশীল ‘ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে’ রূপান্তর করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রবাসীদের আর্থিক বিনিয়োগ, মেধা ও অভিজ্ঞতা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উক্ত মতবিনিময় সভায় মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা একাডেমিয়া, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ, বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের নানামুখী সমস্যা, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তাঁরা মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশী কর্মীদের কর্মসংস্থান ও উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, পাসপোর্ট প্রাপ্তি সহ সকল কনস্যুলার সেবা আরও সহজীকরণ এবং প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের জন্য সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সম্মানিত হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী, মালয়েশিয়া বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিয়ার বাদলুর রহমান বাদল, সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুব আলম শাহ, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেনসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধি, নারী শিক্ষাবিদ, ছাত্র প্রতিনিধি এবং দূতাবাসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এই বর্ণিল ও প্রাণবন্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন।


