ফিলিস্তিনের পক্ষে মাঠের নীরব প্রতিবাদ আর সবুজ গালিচায় গোল উৎসব: ইসরায়েলকে উড়িয়ে দিল আয়ারল্যান্ড

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮  সেপ্টেম্বর | আপডেট: ২৮  সেপ্টেম্বর ২০২৬  

বিশ্বজুড়ে চলমান মানবিক সংকটের মুখে ফিলিস্তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর সংহতি এবং সমর্থন জানিয়ে মাঠে নেমেছিল আয়ারল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দল। কেবল প্রতীকী প্রতিবাদেই সীমাবদ্ধ থাকেনি তারা, বরং সবুজ গালিচায় দুর্দান্ত ফুটবল শৈলী প্রদর্শন করে প্রতিপক্ষ ইসরায়েলকে পাত্তাই দেয়নি আইরিশরা। উয়েফা নেশনস লিগের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ইসরায়েলকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে মাঠ ছেড়েছে আয়ারল্যান্ড। ম্যাচ শুরুর আগের মানবিক প্রতিবাদ এবং পরবর্তী সময়ে মাঠের অসাধারণ পারফরম্যান্স পুরো ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে হাঙ্গেরির ডেব্রেসেনে অনুষ্ঠিত ম্যাচটির শুরু থেকেই আইরিশ ফুটবলাররা তাদের দৃঢ় নৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দেন। বাহুতে কালো ফিতা বেঁধে এবং প্রতিপক্ষের জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় মাথা নিচু করে নীরব প্রতিবাদ জানিয়ে তারা ফিলিস্তিনের মজলুম জনগণের পাশে থাকার বার্তা দেন। ম্যাচের বাঁশি বাজার পর থেকেই মাঠের খেলায় নিজেদের সম্পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করে আয়ারল্যান্ড। খেলার বয়স তখন মাত্র ১৪ মিনিট; জেমস আবানকোয়ার নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে চমৎকার শটে ইসরায়েলি গোলরক্ষক ড্যানিয়েল পেরেজকে পরাস্ত করে আইরিশদের ১-০ গোলে এগিয়ে দেন ফরোয়ার্ড ট্রয় প্যারট। এই গোলের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই মাত্র দুই মিনিট বাদেই (১৬ মিনিটে) ফের গোল হজম করে ইসরায়েল। জ্যাক ময়লানের সুচারু সহায়তায় দারুণ ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অ্যাডাম ইদাহ (২-০)। এরপর ২৫ মিনিটের মাথায় ইসরায়েলের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দুর্দান্ত এক গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন স্বয়ং জ্যাক ময়লান। গোল করার পর বাঁধভাঙা উদযাপনের সময় নিজের বাহুর কালো ফিতায় চুমু খেয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি নিজেদের অটুট সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেন এই আইরিশ তারকা। ম্যাচের বাকি সময় ও দ্বিতীয়ার্ধে ইসরায়েল দল মরিয়া হয়ে গোল পরিশোধের কিছু আক্রমণ চালালেও আয়ারল্যান্ডের অত্যন্ত জমাট ও সতর্ক রক্ষণভাগ ভেদ করতে ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত ৩-0 গোলের দাপুটে ও ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন আইরিশ খেলোয়াড়রা। মাঠের ফুটবলে দুর্দান্ত নৈপুণ্য এবং মাঠের বাইরে ফিলিস্তিনের প্রতি মানবিক সমর্থনের এই অনন্য নজির খেলাপ্রেমী মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘকাল স্মরণে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *