সৌদির পূর্বাঞ্চলে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত, ইয়েমেনে ৩৩ নিহতের দাবি

বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় ছয় দফা অভিযানের দাবি হুতিদের; পাল্টাপাল্টি হামলায় বাড়ছে উত্তেজনা

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। রোববার (৮ নভেম্বর) এ তথ্য জানানো হয়। অন্যদিকে, ইয়েমেনের সানা প্রদেশে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় ৩৩ জন নিহত ও ৩৯ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে হুতি নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি জানান, পূর্বাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রটি সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রের ঘটনায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। এর আগে শনিবার রিয়াদ অঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করার কথা জানায় জোট।

এদিকে সানার পূর্বে আল-শারিয়া গ্রামে হামলার ঘটনায় নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে হুতি কর্তৃপক্ষ। হুতি নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা সাবার অভিযোগ, ধ্বংসস্তূপ থেকে হতাহতদের উদ্ধারের সময় উদ্ধারকর্মীদের লক্ষ্য করেও দুই দফা হামলা চালানো হয়। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অভিযোগের বিষয়ে সৌদি আরবের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর মধ্যেই সৌদি আরব ও ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান পরিচালনার দাবি করেছে হুতিরা। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনা এবং সামরিক অবস্থান।

হুতিদের ভাষ্য অনুযায়ী, খুরাইসের আরামকো স্থাপনা এবং দাওয়াদমির একটি তেল পাম্পিং স্টেশনও হামলার লক্ষ্য ছিল। সামরিক অবস্থানে হামলায় হতাহতের দাবি করলেও তারা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য সংখ্যা দেয়নি। এসব হামলার সাফল্য ও ক্ষয়ক্ষতির দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি; সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়েও সৌদি কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবকে সামরিক পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সিরিয়ার সহযোগিতার তথ্যও সামনে এসেছে। রয়টার্সের ৬ নভেম্বরের প্রতিবেদনে দুই সিরীয় সামরিক সূত্র ও একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কয়েক ডজন সিরীয় সামরিক সদস্য সৌদি আরবে গেছেন। সেখানে সৌদি ও ইয়েমেনি বাহিনীর প্রশিক্ষণে সহায়তা করছেন তারা।

তবে সামরিক মোতায়েনের বিষয়ে সিদ্ধান্তমূলক বক্তব্য দেওয়ার সময় আসেনি বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন একজন জ্যেষ্ঠ সিরীয় কূটনীতিক। তিনি বলেন, দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিতে পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয় রয়েছে। ফলে এই সহযোগিতাকে ইয়েমেনে সিরিয়ার সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ হিসেবে নিশ্চিত করার তথ্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *