নির্বাচনী ধাক্কার পর ট্রাম্প প্রশাসনে পদত্যাগের গুঞ্জন, রুবিওর খবর নাকচ হোয়াইট হাউসের

হেগসেথের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা; সামনে আসছে ২০২৮ সালের নেতৃত্বের হিসাব

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রশাসন ছাড়তে পারেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর এলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। রুবিও নিজেও পদত্যাগ কিংবা আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে প্রশাসনের একাধিক সদস্যের সম্ভাব্য প্রস্থান নিয়ে সূত্রের দাবি তুলে ধরা হয়েছে। তবে কারা পদ ছাড়বেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।

রুবিওকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। রিপাবলিকান ও ব্রিটিশ সরকারি সূত্রের বরাতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে তিনি সামনে আসতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তার সম্ভাব্য প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন। তবে এগুলো সূত্রের মূল্যায়ন; রুবিওর ঘোষিত নির্বাচনী পরিকল্পনা নয়।

অন্যদিকে, নির্বাচনী বিপর্যয়ের দায় নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে মতবিরোধের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। দ্য ইনডিপেনডেন্টের পৃথক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে চাপ বেড়েছে। আলোচনায় রয়েছেন পিট হেগসেথ, মার্কো রুবিও এবং জেডি ভ্যান্সসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভ্যান্স নির্বাচনে পরাজয়ের একটি প্রধান কারণ হিসেবে ইরান যুদ্ধকে চিহ্নিত করেছেন। প্রশাসনের কিছু সূত্র তার এই অবস্থানকে যুদ্ধের রাজনৈতিক দায় থেকে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখছে। তবে এই ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট সূত্রের; ভ্যান্সের ঘোষিত উদ্দেশ্য হিসেবে তা নিশ্চিত করা হয়নি।

হেগসেথের পদে থাকা নিয়েও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। কিছু সূত্র তার সম্ভাব্য প্রস্থানের কথা বললেও হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তিনি প্রেসিডেন্টের পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছেন। হেগসেথও ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের ইচ্ছা জানিয়েছেন।

রুবিওকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে হোয়াইট হাউস বলেছে, প্রেসিডেন্টের দল ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। ফলে সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে আলোচনা চললেও রুবিওর পদত্যাগকে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার ভিত্তি নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *