সংবাদ সারাদিন ডেস্ক | মাদারীপুর | ২ নভেম্বর ২০২৬
মাদারীপুরে বাবার বাড়ি থেকে মারিয়া আক্তার নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের পর তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামী ইমরান বেপারীকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২ নভেম্বর) ভোরে মাদারীপুর শহরের সৈয়দারবালীর টিবি ক্লিনিক রোড এলাকার বাবার বাড়িতে মারিয়াকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।
নিহত মারিয়া আক্তার ওই এলাকার হানিফ মুন্সির মেয়ে। তাঁর স্বামী ইমরান বেপারী জেলার ডাসার উপজেলার চিড়াইপাড়া এলাকার কালাম বেপারীর ছেলে।
তিন বছর আগে বিয়ে, এরপর থেকেই দাম্পত্য কলহ
পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে মারিয়া আক্তারের সঙ্গে ইমরান বেপারীর বিয়ে হয়।
বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে দাবি স্বজনদের। একপর্যায়ে দাম্পত্য কলহের কারণে বাবার বাড়িতে চলে আসেন মারিয়া।
রোববার (১ নভেম্বর) রাতে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে শ্বশুরবাড়িতে যান ইমরান। রাতে সেখানে অবস্থানও করেন তিনি।
পরদিন ভোরে মারিয়াকে ঘরের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর ইমরানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি করে তাঁকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
যৌতুকের জন্য হত্যার অভিযোগ স্বজনদের
মারিয়ার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন স্বামী।
স্বজনদের দাবি, যৌতুকের চাহিদা পূরণ না হওয়ায় মারিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ তাঁদের।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।
নিহতের চাচি রুমা আক্তার বলেন, ‘৫ লাখ টাকার মালামাল দিয়ে বিয়ে দেওয়ার পরও প্রায়ই মারিয়াকে মারধর করা হতো। মারিয়াকে হত্যার পর পালিয়ে যান ইমরান। এ ঘটনার কঠিন বিচার চাই।’
মারিয়ার মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তদন্ত করছে পুলিশ
মারিয়ার মৃত্যু হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলমের বরাতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। পরবর্তী সময়ে তদন্তের তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে আটক ইমরান বেপারীকে আদালতে পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে।
বিচার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
মারিয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
স্বজনদের ভাষ্য, মারিয়া দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ ও নির্যাতনের শিকার ছিলেন। তাই তাঁর মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তবে পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে নিশ্চিত হত্যাকাণ্ড বা আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
এখন তদন্তের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে নিহতের পরিবার।
তথ্যসূত্র: স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদন, পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের বক্তব্য।


