চীনের কাছে মার্কিন অস্ত্র কেনার প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প: ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর আলোচনা

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮  সেপ্টেম্বর | আপডেট: ২৮  সেপ্টেম্বর ২০২৬  

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সর্বোচ্চ নেতা শি জিনপিংয়ের কাছে সরাসরি জানতে চেয়েছিলেন যে তিনি আমেরিকার তৈরি সামরিক অস্ত্রশস্ত্র বা সমরাস্ত্র কিনতে আগ্রহী কি না। চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ সম্প্রতি পশ্চিমা গণমাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করার পর থেকেই আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও কূটনীতিতে তীব্র জল্পনা-কল্পনার ঝড় উঠেছে। রোববারে প্রচারিত ফক্স নিউজ সানডের একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত পারডিউ জানান যে ট্রাম্প প্রায়ই বলে থাকেন আমেরিকা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে সমরাস্ত্র বিক্রি করে থাকে, এবং তারই ধারাবাহিকতায় তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে সরাসরি এই প্রশ্নটি করেছিলেন। বিশ্ব পরাশক্তি দুই দেশের মধ্যকার এমন অদ্ভুত ও কৌতূহলোদ্দীপক প্রস্তাবের পেছনের উদ্দেশ্য সিরিয়াস কোনো কূটনৈতিক বার্তা ছিল নাকি কেবল কোনো রাজনৈতিক রসিকতা বা খোঁচা—তা স্পষ্ট করার জন্য হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট।

এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি এমন এক সময়ে প্রকাশ পেল যখন সম্প্রতি গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, হংকং হয়ে চীন সরকারের কাছে কিছু অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপনীয় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ পৌঁছে গেছে বা বেইজিং সেগুলো সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়েছে। যদিও ঠিক কী প্রক্রিয়ায় বা কী কারণে মার্কিন সমরাস্ত্রের এই সংবেদনশীল উপাদানগুলো চীনাদের হাতে পৌঁছাল, তা নিয়ে এখনো মার্কিন গোয়েন্দা মহলে পুরোপুরি পরিষ্কার চিত্র তৈরি হয়নি। এর আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের তিন দিনের হাইপ্রোফাইল যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে দুই নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে স্বশাসিত তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির স্পর্শকাতর বিষয়টিও বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছিল। উল্লেখ্য, বেইজিং তাইওয়ানকে তাদের নিজেদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। বর্তমান বাণিজ্য আলোচনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার ও মজুতের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হওয়ায় ওয়াশিংটন ইতিপূর্বে তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় অস্ত্র বিক্রি চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছিল।

এই প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত পারডিউকে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট করে জানান যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যে ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করেছেন এবং অন্যান্য সমরাস্ত্র বিক্রির বিষয়টিও নিয়মিত আলোচনার টেবিলে রয়েছে। যখনই ট্রাম্প ও শি জিনপিং মুখোমুখি বসেছেন, তখনই তাইওয়ান ইস্যুটি তাদের আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে। তাইওয়ানের প্রতি মার্কিন নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে জানিয়ে পারডিউ বলেন যে আমেরিকা তাইওয়ানের একতরফা স্বাধীনতা কিংবা চীনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সামরিক জবরদস্তি—কোনোটিকেই সমর্থন করে না। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে যেসব দেশ চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক রাখতে ইচ্ছুক, তাদের অবশ্যই ‘এক চীন নীতি’ মেনে চলতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহ্যগতভাবে ‘কৌশলগত অস্পষ্টতা’ নীতি বজায় রেখে চলেছে, যার অর্থ হলো চীন যদি শক্তি প্রয়োগ করে তাইওয়ান দখল করার দুঃসাহস দেখায়, তবে ওয়াশিংটন সামরিকভাবে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে কি না—সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবেই কোনো পরিষ্কার প্রতিশ্রুতি বা ঘোষণা দেয় না। এছাড়া ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের ওই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রতি বেইজিংয়ের সামরিক ও অর্থনৈতিক সমর্থনের বিষয়টিও জোরালোভাবে তুলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পারডিউয়ের দাবি অনুযায়ী, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে বেইজিং তাদের এই সংক্রান্ত নীতিতে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে এবং বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। বিশ্ব রাজনীতিতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের এমন টানটান উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *