বিদ্যুতের খুঁটি ও ঝুলন্ত তার সরিয়ে ভূগর্ভস্থ লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে সিলেটকে ‘তারবিহীন নগরী’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্প চালুর ছয় বছর পেরিয়েও প্রত্যাশিত সুফল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন নগরবাসী। গুরুত্বপূর্ণ অনেক সড়কে এখনও রয়ে গেছে খুঁটি ও ঝুলন্ত তার।
প্রকল্পের নির্ধারিত কাজ শেষ করে হস্তান্তরের দাবি করছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) বলছে, নির্ধারিত অনেক এলাকায় ভূগর্ভস্থ লাইন স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। দুই সংস্থার ভিন্ন বক্তব্যে প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও সুফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘সিলেট বিভাগ বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় নগরের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সাত কিলোমিটার সড়কে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের কাজ শুরু হয়।
পরিকল্পনায় দরগাহ গেট থেকে নয়াসড়ক, কুমারপাড়া, জিন্দাবাজার, কোর্ট পয়েন্ট, সার্কিট হাউস হয়ে তালতলা পর্যন্ত এ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা ছিল। পাশাপাশি চৌহাট্টা থেকে রিকাবীবাজার ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সড়ক হয়ে নবাব রোড পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ লাইন স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
২০২০ সালের জানুয়ারিতে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়। পরে চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার ও সার্কিট হাউসসহ কয়েকটি এলাকায় কাজ এগোয়। তবে নগরবাসীর অভিযোগ, নির্ধারিত সব সড়কে এ ব্যবস্থা চালু হয়নি। কোথাও কোথাও কারিগরি ত্রুটির আশঙ্কায় ভূগর্ভস্থ লাইনের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে ওপরের ঝুলন্ত লাইনও রাখা হয়েছে।
সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও নির্বাহী প্রকৌশলী জয়দেব বিশ্বাসের ভাষ্য, নগরবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। নির্ধারিত অনেক এলাকায় এখনও ভূগর্ভস্থ লাইন স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
তবে প্রকল্প পরিচালক চন্দন কুমার সূত্রধর দাবি করেছেন, প্রকল্পের নির্ধারিত সব কাজ শেষ করে বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসাইন জানিয়েছেন, আম্বরখানা থেকে দরগাহ গেট হয়ে চৌহাট্টা এবং জিন্দাবাজার হয়ে সার্কিট হাউস পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ লাইনের কাজ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া জিন্দাবাজার পয়েন্ট থেকে জেল রোডের দুই পাশে, জল্লারপাড়, মির্জাজাঙ্গাল ও উপশহরেও কিছু কাজ হয়েছে।
এদিকে নগরের সৌন্দর্য রক্ষা ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গত আগস্টে নতুন কিছু এলাকা যুক্ত করে আরেকটি প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সিসিক। এ জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক।
পুরোনো প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে মতপার্থক্যের মধ্যেই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফলে সিলেটকে ‘তারবিহীন নগরী’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা কবে পূর্ণতা পাবে, সেই প্রশ্ন রয়ে গেছে।


