সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিশ্বের অন্যতম সংবেদনশীল এবং জ্বালানি সরবরাহের প্রধান জলপথ হিসেবে পরিচিত কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক চালকবিহীন ডুবোযান বা আন্ডারওয়াটার ড্রোন সফলভাবে আটক করার চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ‘রেমাস ৬০০’ নামক অত্যন্ত উন্নত এই স্বয়ংক্রিয় ডুবোযানটি মূলত ওই জলসীমায় অবৈধভাবে গোপন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। আইআরজিসির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, আটককৃত এই ড্রোনটির ভেতরে সংরক্ষিত সংবেদনশীল ও প্রযুক্তিগত তথ্যগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য বর্তমানে তাদের বিশেষায়িত প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ও দুই দেশের মধ্যকার নতুন করে তৈরি হওয়া সামরিক উত্তেজনার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
ইরানের প্রভাবশালী আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ আইআরজিসির একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির বরাত দিয়ে প্রকাশ করেছে যে, অত্যন্ত জটিল ও নিখুঁত একটি ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা এবং উন্নত গোয়েন্দা কার্যক্রমের সমন্বয়ে পরিচালিত সফল অভিযানের মাধ্যমেই মার্কিন এই ডুবোযানটিকে তাদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। আইআরজিসির নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়েছে যে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী তাদের কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এই জলপথের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক তৎপরতা, সামরিক উসকানি কিংবা অননুমোদিত নৌ চলাচলের বিরুদ্ধে তারা অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ইরানের এই নতুন দাবি আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সামরিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে; কারণ মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের একটি বিশাল অংশ পরিবাহিত হয়ে থাকে, ফলে সেখানে এ ধরনের সামরিক উত্তেজনা বা ড্রোন আটকের ঘটনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন ভূরাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।


