সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান এবং সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত চারজন আসামির মধ্যে বয়স কম হওয়ায় দুই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার এসআই সাইফুল ইসলাম সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রোববার রাতে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় আটক চার আসামিকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় কুমিল্লা কারাগার কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয় এবং আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও বয়স যাচাই সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান জানিয়েছেন যে, পুলিশ হত্যা মামলায় মোট চারজন আসামিকে কারাগারে বুঝিয়ে দেওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের আলাদা করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে বয়স কম হওয়ায় অভিযুক্ত মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) এবং কামরুল হাসানকে (১৬) গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, আর অপর দুই সাবালক আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) ও সিয়াম (১৯) কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারেই আটক থাকবেন। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মায়ের আইফোন হাতে নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে কোটবাড়ী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম। পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয় এবং নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা গ্রামের একটি নির্জন ঝোপ থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই ঘটনার পরপরই আধুনিক প্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে প্রথমে সন্দেহভাজন সাইফুল ইসলাম তুহিনকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে তার দেওয়া চাঞ্চল্যকর তথ্যের ভিত্তিতে একে একে বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। পুলিশ গত রবিবার বিকেলে এই চার আসামিকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ১ নম্বর আমলি আদালতে সোপর্দ করলে আসামি সিয়াম ছাড়া বাকি তিনজন ধৃত আসামি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ পরিবার ও পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল অপরাধীর কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আন্দোলন ও ক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।


