সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১ জুলাই ২০২৬
দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প পদ্মা বহুমুখী সেতু টোল আদায়ে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) জানিয়েছে, সেতুটি চালু হওয়ার পর থেকে ২৯ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৪২৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বেশি টোল আদায় হয়েছে। একই সময়ে পদ্মা সেতু ব্যবহার করেছে ২ কোটি ৬৮ লাখ ৬২ হাজার ৮০৮টি যানবাহন।
সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুন মাসে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকেই পদ্মা সেতুতে যানবাহনের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ঈদ, সরকারি ছুটি এবং বিভিন্ন উৎসবের সময় যান চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়, যার ফলে টোল আদায়েও নতুন নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা সেতু শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ করেনি, বরং দেশের বাণিজ্য, কৃষি, শিল্প এবং পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সেতুর মাধ্যমে ঢাকা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে, ফলে পরিবহন ব্যয় হ্রাস এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গতি এসেছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, টোল আদায় থেকে প্রাপ্ত অর্থ সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা এবং প্রকল্প-সংক্রান্ত আর্থিক দায়বদ্ধতা পরিশোধে ব্যবহৃত হচ্ছে। একই সঙ্গে আধুনিক ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ETC) ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে যানবাহনের চলাচল আরও দ্রুত ও সহজ করার উদ্যোগও চলমান রয়েছে।

অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, পদ্মা সেতুর এই ধারাবাহিক টোল আয় দেশের অবকাঠামো বিনিয়োগের ইতিবাচক ফলাফলকে তুলে ধরে। ভবিষ্যতে সেতু ঘিরে শিল্প, পর্যটন এবং লজিস্টিকস খাতের আরও সম্প্রসারণ হলে জাতীয় অর্থনীতিতে এর অবদান আরও বৃদ্ধি পাবে।
মূল বিষয়সমূহ
- পদ্মা সেতুতে টোল আদায় ৩,৪২৯ কোটি টাকার নতুন মাইলফলকে পৌঁছেছে।
- সেতু চালুর পর থেকে ২ কোটি ৬৮ লাখের বেশি যানবাহন চলাচল করেছে।
- দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ, বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
- ইলেকট্রনিক টোল সংগ্রহ ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ চলছে।
- টোল থেকে প্রাপ্ত অর্থ সেতুর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সম্পাদকের নোট: বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ নতুন পরিসংখ্যান বা টোল-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করলে এই প্রতিবেদন হালনাগাদ করা হবে।
