জাতীয় উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Table of content

Table of content

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মানবসেবা, স্বনির্ভরতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক | জাতীয় ডেস্ক | সংবাদ সারাদিন

ঢাকা, ১৯ অক্টোবর ২০২৬: একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সম্মিলিত উদ্যোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা প্রয়োজন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাই একটি সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে হলে শুধু প্রত্যাশা নয়, প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করতে হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ ধরনের উদ্যোগের সূচনা করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগেই সম্ভব স্বনির্ভরতা

ফাউন্ডেশনের দীর্ঘ পথচলার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, ১৯৯৯ সালে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। ২০০৩ সালে তিনি এর স্লোগান লেখেন—‘একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা এনে দেবে সচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা’।

তিনি বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করার যে লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা এগিয়ে নিতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং তাদের বাস্তব সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সমাজের কল্যাণে কাজ করার জন্য সব সময় বিপুল অর্থসম্পদ থাকা জরুরি নয়। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আন্তরিক ইচ্ছা ও উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ। সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা নিজেদের সম্পদের সামান্য অংশ সমাজ, মানুষ ও প্রকৃতির কল্যাণে ব্যয় করলেও বহু মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

রাজনীতির বাইরেও মানুষের কল্যাণে কাজের গুরুত্ব

অনুষ্ঠানে তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে গণতন্ত্র, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, ভোটাধিকার, কৃষি, শিল্পের বিকাশ, শিক্ষা এবং নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার বিষয়গুলো উঠে আসে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের জন্য কাজ করার ক্ষেত্র কেবল রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমেও মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল রাজনীতির বাইরেও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া।

তিনি ফাউন্ডেশনের সদস্য ও কর্মীদের উদ্দেশে মানুষের মুখে হাসি ফোটানোকে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।

মানবসেবায় ২৭ বছরের পথচলা

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। সংগঠনটির ঘোষিত লক্ষ্য দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করা।

ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের মধ্যে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাসেবা, অসহায় পরিবারের জন্য সহায়তা, ঘর নির্মাণ, গবাদিপশু ও সেলাই মেশিন বিতরণ, শীতবস্ত্র প্রদান, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, বৃক্ষরোপণ, কৃষকদের বীজ সহায়তা এবং শিক্ষাবৃত্তির মতো উদ্যোগ রয়েছে বলে বাসসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানও বক্তব্য দেন। তিনি জেডআরএফের দীর্ঘদিনের মানবসেবামূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং সংগঠনটিকে মানবিকতার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি এবং ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের সামনে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ

দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সহায়তা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মতো ক্ষেত্রে সমন্বিত প্রচেষ্টা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে মানুষের কল্যাণে কাজ করার যে আহ্বান উঠে এসেছে, তার বাস্তব প্রতিফলন নির্ভর করবে এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতা, কার্যকারিতা এবং মানুষের কাছে সেবা পৌঁছানোর সক্ষমতার ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *