সর্বজনীন পেনশনে সর্বোচ্চ ১১.৭২ শতাংশ মুনাফা, গ্রাহকদের হিসাবে যুক্ত হচ্ছে অর্থ

Table of content

Table of content

২০২৫–২৬ অর্থবছরে বিনিয়োগ থেকে প্রায় ২৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা মুনাফা; জমার পরিমাণ ও সময়কাল অনুযায়ী গ্রাহকদের পেনশন হিসাবে অর্থ যোগ করার সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক | অর্থনীতি | সংবাদ সারাদিন

ঢাকা, ১৯ অক্টোবর ২০২৬: সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বিনিয়োগের বিপরীতে সর্বনিম্ন ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ মুনাফা অর্জিত হয়েছে। এ মুনাফা গ্রাহকদের নিজ নিজ পেনশন হিসাবে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) কর্তৃপক্ষের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বিনিয়োগ থেকে মোট ২৮ কোটি ৯৬ লাখ ৫৫ হাজার ৪৮ টাকা ৮০ পয়সা মুনাফা অর্জিত হয়েছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভায় গ্রাহকদের মধ্যে এ মুনাফা বণ্টনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে প্রত্যেক গ্রাহকের জমার পরিমাণ এবং জমার সময়কাল বিবেচনায় নিয়ে অর্জিত মুনাফা তাঁদের নিজ নিজ পেনশন হিসাবে যোগ করা হবে।

জমা ও সময়কালের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে মুনাফা

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় সব গ্রাহক সমান অঙ্কের মুনাফা পাবেন না। প্রত্যেকের জমার পরিমাণ এবং কত সময় ধরে অর্থ জমা ছিল, তার ভিত্তিতে মুনাফার হিসাব নির্ধারিত হবে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের হিসাবে অর্জিত মুনাফার হিসাব ইতোমধ্যে যোগ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, গ্রাহকদের আস্থা বাড়ানো, জমাকৃত অর্থের নিরাপত্তা এবং যৌক্তিক মুনাফা নিশ্চিত করতে তাঁরা কাজ করছেন।

তবে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ হলো বিনিয়োগের বিপরীতে অর্জিত সর্বোচ্চ মুনাফার হার; প্রত্যেক গ্রাহকের জন্য একই হারে মুনাফা পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়।

চারটি স্কিমে অংশ নেওয়ার সুযোগ

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় আনার লক্ষ্যে চালু করা হয়েছে। এর আওতায় রয়েছে চারটি স্কিম:

  • প্রবাস: বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য।
  • প্রগতি: বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য।
  • সুরক্ষা: স্বকর্মে নিয়োজিত ও অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের জন্য।
  • সমতা: নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য।

প্রতিটি স্কিমের চাঁদার পরিমাণ, যোগ্যতা ও সুবিধার নিয়ম আলাদা। তাই অংশগ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট স্কিমের শর্তাবলি যাচাই করা প্রয়োজন।

দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তায় পেনশনের ভূমিকা

অবসরকালীন সময়ে নিয়মিত আয়ের উৎস না থাকলে অনেক মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো কর্মজীবনে নিয়মিত চাঁদা জমার মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য একটি আর্থিক ভিত্তি তৈরি করা।

তবে কোনো পেনশন স্কিমে অংশ নেওয়ার আগে চাঁদার সামর্থ্য, জমার মেয়াদ, প্রাপ্য সুবিধা, প্রযোজ্য বিধিমালা এবং অর্থ উত্তোলনের শর্ত বুঝে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের এই মুনাফা বণ্টনের সিদ্ধান্ত অংশগ্রহণকারীদের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবস্থাটির কার্যকারিতা নির্ভর করবে স্বচ্ছ বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত তথ্য প্রকাশ এবং গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখার ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *