জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর, ১০ বছর পর খুলল ওসমানী উদ্যান

৮৩৪ শহীদের নাম খোদাই করা ৯০ ফুট উঁচু স্মৃতিস্তম্ভ; ২৩ একরজুড়ে আধুনিকায়িত উদ্যানে থাকছে হাঁটার পথ, জলাশয় ও গ্রন্থাগার

নিজস্ব প্রতিবেদক | জাতীয় | সংবাদ সারাদিন

ঢাকা, ১৯ অক্টোবর ২০২৬: রাজধানীর ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই অনুষ্ঠানে আধুনিকায়ন করা ওসমানী উদ্যানও উদ্বোধন করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত হলো ঐতিহাসিক এই উদ্যান।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটির উদ্বোধন করেন। এ সময় শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শাহারিয়ার খান আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলম উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি আধুনিকায়িত উদ্যান ঘুরে দেখেন এবং সেখানে স্থাপিত গ্রন্থাগার পরিদর্শন করেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দ্য ডেইলি স্টার ও ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

৮৩৪ শহীদের নাম খোদাই করা স্মৃতিস্তম্ভ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটি প্রায় ৯০ ফুট উঁচু। প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মিত স্থাপনাটির গায়ে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে ৮৩৪ জন শহীদের নাম খোদাই করা হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভের সামনে রয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।

স্থাপনাটির বাইরের দিকে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে চার ফুট উঁচু এবং ভেতরের দিকে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে সাত ফুট উঁচু রিলিফ ভাস্কর্য রয়েছে।

ভাস্কর্যগুলোতে বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলন ও সংগ্রামের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান।

স্মৃতিস্তম্ভটির নকশা ও স্থাপত্যের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, মানুষের আত্মত্যাগ এবং ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২৩ একরজুড়ে আধুনিক ওসমানী উদ্যান

পুরান ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত প্রায় ২৩ একর আয়তনের ওসমানী উদ্যানকে আধুনিক, সবুজ ও পরিবেশবান্ধব নাগরিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে উদ্যানটির আধুনিকায়ন করা হয়।

প্রকল্পের আওতায় পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি পাঁচটি নতুন জলাশয় নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যমান গাছপালা সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন বৃক্ষরোপণ ও সবুজ দ্বীপ তৈরি করা হয়েছে।

উদ্যানটিতে প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার হাঁটার পথ, ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা, গণশৌচাগার, পার্কিং সুবিধা এবং জলাশয়ের ঘাট রয়েছে। এ ছাড়া বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

উদ্যানের নকশায় সবুজায়ন, হাঁটাচলা ও অবসর কাটানোর সুবিধার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নগরবাসীর জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন উন্মুক্ত স্থান তৈরির লক্ষ্যেই এসব সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।

নগরবাসীর জন্য নতুন বিনোদনকেন্দ্র

ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ নগরজীবনে উন্মুক্ত সবুজ স্থান, হাঁটার পথ ও নিরাপদ বিনোদনকেন্দ্রের প্রয়োজন ক্রমেই বাড়ছে। আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যান সেই চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে।

উদ্যানটি সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা হাঁটাচলা, ব্যায়াম ও অবসর যাপনের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে স্মৃতিস্তম্ভটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস ও শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে গড়ে উঠবে।

তবে এসব স্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং সবুজ পরিবেশ সংরক্ষণ জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *