সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: রায়ের কপি পেলে বিস্তারিত জানাবে সরকার

Table of content

Table of content

ঢাকা | ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | জাতীয় ডেস্ক | সংবাদ সারাদিন

সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় দেশটির আদালতের রায়ের কপি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ সরকার। রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের তথ্যও খতিয়ে দেখছে মন্ত্রণালয়।

সময় নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি ২০২৩ সালের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়, মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ঘটনার অন্যান্য বিবরণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পেতে আদালতের রায়ের কপি প্রয়োজন।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে জানানো হয়নি

সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে তাঁদের নাম নাজেরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। তদন্তের পর তাঁদের আদালতে পাঠানো হয় এবং আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। পরবর্তী বিচারিক অনুমোদন ও রাজকীয় আদেশের পর সাজা কার্যকর করা হয় বলে সৌদি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

তবে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বিবরণ, সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচয় এবং মামলার পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে নেই। ফলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রায়ের কপি ও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য চেয়েছে ঢাকা

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা সৌদি আরবে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনকে জানানো হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বিষয়টি জানার পর জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চেয়ে যোগাযোগ করে।

পরবর্তীতে ১৮ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় বিষয়ক সচিব মো. নজরুল ইসলাম ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়। সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে আগে পাঠানো কূটনৈতিক নোটের একটি মুদ্রিত কপিও হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল, বিচারিক প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং কেন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশি মিশনকে জানানো হয়নি।

আটক বাংলাদেশিদের তথ্যও খতিয়ে দেখছে মন্ত্রণালয়

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে কারাভোগ করা বাংলাদেশিদের তালিকা নিয়মিতভাবে পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট তালিকা পর্যালোচনা করে মন্ত্রণালয় ঘটনাটির সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য খুঁজছে।

দ্য ডেইলি স্টারের ১৯ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বন্দি বাংলাদেশিদের বিষয়ে তথ্য চেয়েছিল। পরে পাঠানো একটি তালিকায় দুই বাংলাদেশির নাম ছিল বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে তালিকায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের তথ্য উল্লেখ ছিল না।

বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তালিকায় একজনের বিরুদ্ধে ‘ব্যভিচার’ এবং অন্যজনের বিরুদ্ধে ‘ICT’ হিসেবে অভিযোগের উল্লেখ ছিল। কিন্তু শুধু ওই তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের ঘটনার সঙ্গে নিশ্চিতভাবে মিলিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি।

পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ও মরদেহ দেশে আনার বিষয়

নিহত দুই বাংলাদেশির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তাঁদের পরিচয়, কর্মসংস্থান, সৌদি আরবে অবস্থানের সময়কাল এবং মামলার পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন রয়েছে।

এর আগে সরকার জানিয়েছিল, সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ বিবেচনা করা হবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত অগ্রগতি সম্পর্কে সোমবারের প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

পূর্ণাঙ্গ তথ্যের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় এখনো বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর জানা বাকি। মামলার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, বিচারিক প্রক্রিয়া, মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত আদেশ এবং বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশনকে আগাম অবহিত না করার কারণ—এসব বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চায় ঢাকা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, রায়ের কপি ও সংশ্লিষ্ট নথি হাতে পাওয়ার পর সরকার বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারবে। ততক্ষণ পর্যন্ত অভিযোগ ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্যকে চূড়ান্ত সরকারি ব্যাখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *