সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন ইসিবি চত্বর সংলগ্ন নিউগিনি প্রপার্টিজে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দুই অস্ত্রধারীসহ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অন্যদিকে, মিরপুরের শাহ আলী এলাকায় ঐতিহাসিক রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার আলোচিত ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে চাঞ্চল্যকর এই দুটি ন্যক্কারজনক ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল পরিকল্পনাকারী বা মাস্টারমাইন্ডদের এখনো আইনের আওতায় আনতে না পারায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দিবাগত রাতে নিউগিনি প্রপার্টিজের কার্যালয় এবং জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। নিউগিনি প্রপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়ার দায়ের করা মামলায় ক্যান্টনমেন্ট থানা-পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যৌথ অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অস্ত্রহাতে সরাসরি হামলায় অংশ নেওয়া মামুন ও মুন্না ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম অনিক এবং এজাহারভুক্ত আসামি মিজানুর রহমান রয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিউগিনি প্রপার্টিজের পাশেই মামলার ৪ নম্বর আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর জমি রয়েছে এবং যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জের ধরেই এই হামলার সূত্রপাত হতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সত্যতা পেলে তাকেও দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।
অন্যদিকে, মিরপুরের শাহ আলী এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দখলের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কতিপয় নেতার সম্পৃক্ততার তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এই ঘটনায় পুলিশ ও ডিবি বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। চিকিৎসাসেবার মতো একটি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান দখল ও ধ্বংস করার নেপথ্য নায়কদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, সাধারণ মানুষ ও তারকাদের ওপর এমন হামলা এবং রাষ্ট্রীয় বা জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং মূল পরিকল্পনাকারীদের খুব শীঘ্রই আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।


