ডোমারের গোমনতিতে পরকীয়া ও যৌতুকের দাবিতে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ

সেলিম রেজা, নীলফামারী:


নীলফামারীর ডোমার উপজেলার গোমনতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছাঃ সেলিনা বেগম সুমির বিরুদ্ধে অবৈধ পরকীয়া, অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে, যৌতুক দাবি এবং প্রথম স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নিতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।এছাড়া ভুক্তভোগী ময়না আক্তারের পক্ষে আইনানুগ ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-১ (ডোমার,ডিমলা) আসনের বিএনএফ এর মনোনীত প্রার্থী (ক্রমিক নং ১) মো: সিরাজুল ইসলাম এর উপস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো.মতিউর রহমান গত ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী প্রথম স্ত্রীর আইনগত প্রতিনিধি হিসেবে এই নোটিশ প্রেরণ করেন।


নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২০০৬ সালে প্রথম স্ত্রী মোছাঃ ময়না আক্তারের সাথে মো. পারভেজ হাসানের রেজিস্ট্রিকৃত বিয়ে হয় এবং তাঁদের সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে স্বামী পারভেজ হাসান প্রবাসে থাকাকালীন শিক্ষিকা সেলিনা বেগম সুমির সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়ান। বিদেশ থেকে ফিরে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই তিনি সুমিকে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

এরপর অভিযুক্ত শিক্ষিকা ও অন্যান্যদের প্ররোচনায় ১০ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আসামিরা একত্রিত হয়ে প্রথম স্ত্রীকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন এবং গলা টিপে হত্যার চেষ্টা চালান। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ইতিপূর্বে ডোমার আমলি আদালতে একটি মামলা (সি.আর. নং- ৪৮/২০২৬) দায়ের করা হয়েছে।


বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি:
একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও অন্যের সংসার ভাঙা, পরকীয়া ও ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকা “সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮” অনুযায়ী “অসদাচরণ” ও “নৈতিক স্খলন”-এর শামिल। তাই আগামী ৭ দিনের মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষিকা সেলিনা বেগম সুমিকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তসহ বিভাগীয় মামলা রুজু করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।

উক্ত নোটিশের অনুলিপি শিক্ষা সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *