সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৯ জুলাই ২০২৬
২০২৬ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) প্রবৃদ্ধি ৩.৭ শতাংশ হতে পারে
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে। সংস্থাটির সর্বশেষ মূল্যায়নে ২০২৬ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) প্রবৃদ্ধি ৩.৭ শতাংশ হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে এডিবির পূর্বাভাস ছিল তুলনামূলক বেশি। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল রপ্তানি, বেসরকারি বিনিয়োগে ধীরগতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাকে এ সংশোধিত পূর্বাভাসের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতি এখনও রেমিট্যান্স প্রবাহ, সেবা খাতের কার্যক্রম এবং কিছু অগ্রাধিকারমূলক খাতে ঋণ সহায়তার কারণে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় ও বেসরকারি বিনিয়োগ প্রত্যাশার তুলনায় ধীর গতিতে এগোচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমে যাওয়া মানেই অর্থনীতি সংকটে রয়েছে—এমনটি নয়। বরং এটি বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা, বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের একটি সতর্ক মূল্যায়ন। যথাযথ নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে আগামী অর্থবছরে অর্থনৈতিক কার্যক্রম আবারও গতি পেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
এডিবি জানিয়েছে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং চলমান সংস্কার কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আবারও বাড়তে পারে। তবে বৈশ্বিক বাজার, জ্বালানি মূল্য এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতির ওপরও বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
- প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা ধীর হতে পারে।
- নতুন বেসরকারি বিনিয়োগের সিদ্ধান্তে সতর্কতা বাড়তে পারে।
- কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
- রপ্তানি, ব্যাংকিং সংস্কার এবং বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের নীতিগত পদক্ষেপ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
মূল বিষয়সমূহ
- এডিবি বাংলাদেশের ২০২৬ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩.৭ শতাংশে নামিয়েছে।
- উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল রপ্তানি ও বিনিয়োগ ধীরগতির কারণে পূর্বাভাস সংশোধন।
- রেমিট্যান্স ও সেবা খাত অর্থনীতিকে কিছুটা সহায়তা করছে।
- নীতিগত সংস্কার ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
- অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সামষ্টিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ।
সম্পাদকের নোট: এডিবি, বাংলাদেশ ব্যাংক বা অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি বা সামষ্টিক অর্থনীতি নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশিত হলে এই প্রতিবেদন হালনাগাদ করা হবে।


