সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬
মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার গুরুত্ব পাচ্ছে
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর (IMF) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করছে। সফরকালে প্রতিনিধিদল সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকগুলোতে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, রাজস্ব আহরণ, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি ব্যয় দক্ষতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগের অগ্রগতি নিয়েও আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, খেলাপি ঋণ হ্রাস, ব্যাংকিং খাতের সুশাসন, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের পরিস্থিতি এবং মুদ্রানীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে বলে জানা গেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আইএমএফের সঙ্গে চলমান আলোচনা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তারা মনে করেন, যেকোনো সংস্কার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের স্বার্থ, ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি এবং সামাজিক নিরাপত্তাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি রাজস্ব ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সরকারি সেবার ডিজিটাল রূপান্তর, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দিলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
সফর শেষে আইএমএফ প্রতিনিধিদল তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ সরকারের কাছে তুলে ধরবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ভবিষ্যতে ঋণ কর্মসূচি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে এসব আলোচনার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মূল বিষয়সমূহ
- নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফ প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর।
- অর্থনৈতিক সংস্কার ও সামষ্টিক অর্থনীতি নিয়ে বৈঠক।
- বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা।
- মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার গুরুত্ব পাচ্ছে।
- সফর শেষে আইএমএফ পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ উপস্থাপন করবে।
আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে
- অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম।
- ব্যাংকিং খাতের সুশাসন।
- খেলাপি ঋণ হ্রাস।
- মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ।
- বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।
- বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি।
- রাজস্ব আহরণ ও সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা।


