ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চলা ড্রোনের যোগাযোগে সীমাবদ্ধতার অভিযোগ; কয়েকটি অভিযান বাতিলের কথা জানিয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সংবাদ সারাদিন
কিয়েভ, ১৫ অক্টোবর: মার্কিন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থা স্টারলিংক ব্যবহারে আকস্মিক বিধিনিষেধের কারণে ইউক্রেনের সামরিক ড্রোন অভিযান ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটির কর্মকর্তারা। তাঁদের দাবি, দ্রুতগতিতে চলার সময় ড্রোনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় কয়েকটি অভিযান বাতিল করতে হয়েছে। এতে আক্রমণাত্মক ড্রোন অভিযান এবং আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত ড্রোন পরিচালনা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য এবং ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, স্টারলিংকের সামরিক ব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ টার্মিনালে গতিসীমা আরোপ করা হয়েছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন, আগাম সতর্কতা ছাড়াই এই সীমাবদ্ধতা কার্যকর হওয়ায় সামরিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে।
দ্রুতগতির ড্রোনে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার অভিযোগ
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা সেরহি বেসক্রেস্তনভ জানান, ঘণ্টায় প্রায় ১৬০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চলা ড্রোনের যোগাযোগে বিধিনিষেধের প্রভাব পড়েছে। দেশটির সপ্তম র্যাপিড রিঅ্যাকশন কোরের কর্মকর্তারাও ড্রোন পরিচালনার সময় সাময়িক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোন চলার সময় ১০ থেকে ২০ সেকেন্ড পর্যন্ত সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সেটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে কয়েকটি সামরিক অভিযান বাতিল করতে হয়েছে।
স্টারলিংক ইউক্রেনের সামরিক যোগাযোগ, সম্মুখসারির সেনাদের মধ্যে সমন্বয়, দূরপাল্লার ড্রোন পরিচালনা এবং আকাশ প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মধ্যেও যোগাযোগ সচল রাখার সক্ষমতার কারণে এই প্রযুক্তি ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
বিধিনিষেধের কারণ নিয়ে অনিশ্চয়তা
স্টারলিংক সেবায় বিধিনিষেধ আরোপের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা বন্ধের জন্য ওয়াশিংটনের চাপ নিয়ে আলোচনা চলছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান এবং জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন। তবে স্টারলিংকের বিধিনিষেধের সঙ্গে এসব রাজনৈতিক চাপের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ এখনো প্রকাশিত হয়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিধিনিষেধের বিষয়ে স্পেসএক্সের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নতুন উদ্বেগ
স্যাটেলাইট যোগাযোগে সীমাবদ্ধতার ঘটনা ইউক্রেনের সামরিক সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে পশ্চিমা অংশীদারদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত আগাম সতর্কতা সব ক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করার কথা অস্বীকার করা হয়েছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা স্টারলিংকের সীমাবদ্ধতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এদিকে যুক্তরাজ্য ইউক্রেনকে আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে নতুন সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভরতার প্রশ্ন
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে স্যাটেলাইট যোগাযোগ ও ড্রোন প্রযুক্তি সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ফলে কোনো একটি যোগাযোগব্যবস্থায় বিধিনিষেধ বা বিঘ্ন ঘটলে ড্রোন পরিচালনা, সামরিক সমন্বয় এবং প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে।
তবে স্টারলিংকের বিধিনিষেধ কত দিন কার্যকর থাকবে এবং ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতার ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।


