বিশ্বব্যাংকের নীতিতে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের, তেল-গ্যাস খাতে অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান

Table of content

Table of content

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সংবাদ সারাদিন

বিশ্বব্যাংককে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান প্রকল্পে অর্থায়নের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। পাশাপাশি গভীর সমুদ্রে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ অনুসন্ধান ও ব্যাংকের ক্রয়নীতিতে সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তেল-গ্যাস প্রকল্পে অর্থায়নের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংকের জ্বালানি খাতের অর্থায়ন নীতিতে পরিবর্তনের আহ্বান জানান। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান এবং উৎপাদন পর্যায়ের প্রকল্পে অর্থায়নের ওপর বিশ্বব্যাংকের বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়া উচিত। খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বেসেন্টের বক্তব্য, জ্বালানি অর্থায়নের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি-নিরপেক্ষ নীতি অনুসরণ করা দরকার। অর্থাৎ, কোনো দেশ তার জ্বালানি চাহিদা পূরণে কোন প্রযুক্তি বা উৎস বেছে নেবে, সে সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ থাকা উচিত নয়। তাঁর মতে, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানির প্রাপ্যতা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পারমাণবিক জ্বালানি ও খনিজ খাতেও গুরুত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে শুধু তেল-গ্যাস নয়, পারমাণবিক জ্বালানিতেও বিনিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। দেশটি বিশ্বব্যাংক পরিচালিত নতুন Nuclear Energy Assistance Trust Fund-এ প্রাথমিক অর্থ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর উদ্দেশ্য বিভিন্ন দেশের ভবিষ্যৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎ বিনিয়োগের প্রস্তুতিতে সহায়তা করা।

এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ খনিজের অনুসন্ধান, উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বিশ্বব্যাংকের ভূমিকা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে গভীর সমুদ্রে খনিজ অনুসন্ধানের মতো নতুন খাতে জ্ঞান, নীতিগত সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাংককে ভূমিকা রাখার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ঋণনীতি ও ক্রয়ব্যবস্থায় সংস্কারের আহ্বান

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন নীতির পাশাপাশি প্রকল্পের ক্রয়ব্যবস্থায়ও সংস্কার চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পে প্রতিযোগিতা, মান এবং অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে চীন ও পোল্যান্ডের মতো তুলনামূলক উন্নত দেশগুলোর জন্য বিশ্বব্যাংকের ঋণ-সহায়তা পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার নীতিও দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ক্ষেত্রেও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা, বিনিময় হার এবং বাজারবহির্ভূত নীতির প্রভাব বিশ্লেষণে আরও সক্রিয় ভূমিকা চেয়েছে ওয়াশিংটন। এসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যে চীনের অর্থনৈতিক নীতির প্রতি পরোক্ষ সমালোচনাও রয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাব বাস্তবায়নে কী হবে?

যুক্তরাষ্ট্রের এই আহ্বান বিশ্বব্যাংকের জ্বালানি অর্থায়ন এবং উন্নয়ন কৌশল নিয়ে নতুন নীতিগত আলোচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে প্রস্তাব উত্থাপন মানেই নীতি পরিবর্তন কার্যকর হয়ে যাওয়া নয়। তেল-গ্যাস প্রকল্পে অর্থায়নের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বিশ্বব্যাংকের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের নীতিতে এ ধরনের পরিবর্তন হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জ্বালানি প্রকল্পে অর্থায়নের সুযোগ ও অগ্রাধিকার নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হতে পারে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে চূড়ান্ত নীতি, প্রকল্পের শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জ্বালানি চাহিদার ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *