ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনার সুরক্ষা ও বায়ু চলাচলব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে অর্থায়ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সংবাদ সারাদিন
ইউক্রেনের চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতিগ্রস্ত সুরক্ষা কাঠামো মেরামতে ১৭ মিলিয়ন পাউন্ড অর্থায়নের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ২০২৫ সালে ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাটির গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ও বায়ু চলাচলব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ব্রিটিশ সরকার এ ঘোষণা দেয়।
যুক্তরাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থায়ন ইউক্রেন সরকার ও জি-৭ অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বিত একটি আন্তর্জাতিক কর্মসূচির অংশ। ইউরোপীয় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংক (ইবিআরডি) কর্মসূচিটি সমন্বয় করছে। খবরটি প্রকাশ করেছে রয়টার্স।
সুরক্ষা কাঠামো মেরামত কেন জরুরি
চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতিগ্রস্ত চতুর্থ রিঅ্যাক্টরের অবশিষ্টাংশ ঢেকে রাখতে একটি বৃহৎ সুরক্ষা কাঠামো রয়েছে। তেজস্ক্রিয় পদার্থকে নিরাপদে আবদ্ধ রাখা এবং পরিবেশে দূষণ ছড়ানোর ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে এই কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ড্রোন হামলায় কাঠামোটির ক্ষতি হয়। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে কাঠামোর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় মেরামত না হলে ক্ষয়জনিত সমস্যা বাড়তে পারে, যা পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি করবে।
নতুন অর্থায়নের লক্ষ্য হলো কাঠামোটির তেজস্ক্রিয় পদার্থ আবদ্ধ রাখার সক্ষমতা এবং বায়ু চলাচলব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা। পাশাপাশি স্থাপনাটির পরিকল্পিত কার্যকাল বজায় রাখাও এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় মেরামতকাজ
চেরনোবিলের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইউক্রেনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদাররাও অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। যুক্তরাজ্যের নতুন অনুদান ইবিআরডি, ইউক্রেন সরকার এবং জি-৭ দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে যুক্ত হবে।
ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, ইউক্রেনের জনগণের প্রতি যুক্তরাজ্যের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডও ইউক্রেনের নিরাপত্তা জোরদার এবং রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মিত্রদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
১৯৮৬ সালের বিপর্যয়ের স্মৃতি
১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চতুর্থ রিঅ্যাক্টরে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুতর পারমাণবিক দুর্ঘটনাগুলোর একটি। দুর্ঘটনার পর বিপুল পরিমাণ তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ে এবং ইউক্রেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
চার দশক পরও ক্ষতিগ্রস্ত রিঅ্যাক্টরের অবশিষ্টাংশ নিরাপদে আবদ্ধ রাখা এবং সংশ্লিষ্ট স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এ ধরনের অবকাঠামোর ক্ষতি পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের কাছে চেরনোবিলের সুরক্ষা কাঠামো মেরামত শুধু একটি অবকাঠামোগত কাজ নয়; এটি তেজস্ক্রিয় দূষণের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিবেশগত নিরাপত্তা বজায় রাখারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


