মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদ কমায় ডলারের দরপতন; মূল্যস্ফীতির চাপ থাকলেও অক্টোবরে সুদের হার বাড়ানো নিয়ে সতর্ক ফেডারেল রিজার্ভ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সংবাদ সারাদিন
১৮ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর পর আবারও দরপতনের মুখে পড়েছে মার্কিন ডলার। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের সুদহার কমে যাওয়া এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় ডলারের ওপর চাপ পড়ে। খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ০.২ শতাংশ কমে ১০১.৯৯ পয়েন্টে নেমে আসে। এর আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর ডলার সূচক ১৮ মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল।
ট্রেজারি বন্ডের সুদ কমায় চাপে ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের সুদহার কমে যাওয়া ডলারের দরপতনের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দেশটির ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার কমে ৫.০৯৩৩ শতাংশে দাঁড়ায়। ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদহারও কমে ৫.৪৪৬২ শতাংশে নেমে আসে। উভয় সুদহারই প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়।
বন্ডের সুদহার কমলে ডলারভিত্তিক সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ কিছুটা কমতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা এবং নিরাপদ সম্পদের চাহিদার পরিবর্তনও মুদ্রাবাজারে প্রভাব ফেলে।
মূল্যস্ফীতি বাড়লেও সুদের হার নিয়ে সতর্ক ফেড
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দেশটির ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) আগের মাসের তুলনায় ০.৬ শতাংশ বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৭ শতাংশে, যা আগস্টে ছিল ৩.৪ শতাংশ। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হওয়ায় বাজারে চলতি মাসেই ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়। তবে ফেডের কয়েকজন কর্মকর্তা আরও তথ্য-উপাত্ত পাওয়ার আগে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পক্ষে সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ফেডের ভাইস চেয়ার মিশেল বোম্যান ও সান ফ্রান্সিসকো ফেডের প্রেসিডেন্ট মেরি ডালির বক্তব্যের পর অক্টোবরে সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে বাজারের প্রত্যাশা কিছুটা কমে আসে। ফেডের পরবর্তী বৈঠক ২৭ ও ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
ইউরো ও পাউন্ডের দর পুনরুদ্ধার
ডলারের দর কমার বিপরীতে ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য বেড়েছে। বৃহস্পতিবার ইউরোর দর প্রায় ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ডলারে ১.১২২৩ ডলারে পৌঁছায়। ব্রিটিশ পাউন্ডের দরও প্রায় ০.৪ শতাংশ বেড়ে ১.৩২৫০ ডলারে দাঁড়ায়।
এদিকে জাপানি ইয়েন ও সুইস ফ্রাঁর মূল্যও ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হয়েছে। তবে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার এই পরিবর্তন কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ মূল্যস্ফীতির তথ্য, বন্ডের সুদহার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর।
সামনে কোন দিকে যাবে ডলার?
বাজার বিশ্লেষকদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদক মূল্যসূচক, খুচরা বিক্রির তথ্য এবং ফেড কর্মকর্তাদের পরবর্তী বক্তব্যের দিকে। এসব তথ্য থেকে দেশটির মূল্যস্ফীতি, ভোক্তা ব্যয় ও সুদের হার নিয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকলে সুদের হার বাড়ানোর চাপ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে বন্ডের সুদহার কমতে থাকলে ডলারের শক্তি ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। ফলে স্বল্পমেয়াদে আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।


