ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষাব্যবস্থার সংকটের প্রতিবাদে তীব্র ছাত্র বিক্ষোভ: একদিনে ৪৪০ জন আটক, সংঘর্ষে আহত বহু 

সংবাদ সারাদিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬  

শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ, জায়গার তীব্র সংকট এবং শিক্ষকস্বল্পতাসহ সামগ্রিক শিক্ষা খাতের বেহাল দশার প্রতিবাদে ফ্রান্সের উচ্চ বিদ্যালয়গুলোতে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলন সহিংস রূপ নিয়েছে। রাজধানী প্যারিস থেকে শুরু করে ইল-দ্য-ফ্রঁসসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষার্থীরা স্কুলগুলোর প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মুখে শুধু মঙ্গলবারেই দেশজুড়ে অন্তত ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে, যার বড় একটি অংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অতিরিক্ত (যেমন ৩৪ জন বা তার বেশি) হওয়ার কারণে স্বাভাবিক পড়াশোনার পরিবেশ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ ও শিক্ষাসংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মঙ্গলবারের বিক্ষোভে কিছু জায়গায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা ময়লার পাত্রে আগুন দেয় এবং পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করে। জবাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন শিক্ষক, বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং পুলিশের ৪৮ জন সদস্য আহত হয়েছেন। ফরাসি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই আন্দোলনের ফলে দেশের অন্তত ৪০০টি স্কুল স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় বাধার মুখে পড়েছে।

এদিকে পুলিশের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ ও ছাত্রদমন নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন সংগঠন। তবে ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ দাবি করেছেন যে, পুলিশ অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণভাবেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে এবং প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বিক্ষোভ করার মৌলিক অধিকার সবার থাকলেও স্কুল অবরুদ্ধ করা, আতশবাজি ফোটানো বা সহিংসতার পথ বেছে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের পাশাপাশি মঙ্গলবার ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষক, হাসপাতালকর্মী ও সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন ইউনিয়ন কম বেতন ও কর্মপরিবেশের উন্নতির দাবিতে দেশব্যাপী ধর্মঘট পালন করে, যাতে অন্তত দুই লাখ মানুষ অংশ নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *