ডব্লিউএইচওর সুপারিশ: এইচপিভি টিকায় বাড়ছে বয়সের আওতা

Table of content

Table of content

বিশ্বজুড়ে টিকাদানের হার ৩৩ শতাংশ; জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে কর্মসূচি সম্প্রসারণে জোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সংবাদ সারাদিন

জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদানের আওতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। টিকাদানের হার বাড়াতে সহায়ক হলে ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী মেয়েদেরও নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার সুপারিশ করেছেন সংস্থাটির টিকা বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডব্লিউএইচওর টিকাদানবিষয়ক কৌশলগত বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা গোষ্ঠীর (এসএজিই) চেয়ারম্যান অ্যান্থনি স্কট এ সুপারিশের কথা জানান। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।

বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় টিকাদান অনেক পিছিয়ে

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ১৬৫টি দেশে এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি চালু রয়েছে। তবে বিশ্বব্যাপী টিকাদানের হার প্রায় ৩৩ শতাংশ, যেখানে সংস্থাটির লক্ষ্যমাত্রা ৯০ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদানের আওতা বাড়াতে বিদ্যমান কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা দূর করা এবং বাদ পড়া জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে কম বয়সী মেয়েদের টিকাদানের সুযোগ বিবেচনা করা হতে পারে, যদি তা সামগ্রিক টিকাদানের হার বাড়াতে সহায়তা করে।

৯–১৪ বছর বয়সীদের অগ্রাধিকার

ডব্লিউএইচওর সুপারিশে ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের এইচপিভি টিকাদানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে সংস্থাটির বিশেষজ্ঞরা এ বয়সী মেয়েদের জন্য এক বা দুই ডোজ টিকার সুপারিশ করেছিলেন।

হালনাগাদ বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো এবং এক ডোজের টিকাদান পদ্ধতিকে কার্যকর বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া টিকা না পাওয়া বয়স্ক কিশোরী ও নারীদের টিকাদানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং ছেলেদেরও কর্মসূচির আওতায় আনার বিষয়ে সুপারিশ রয়েছে।

বিশ্বজুড়ে জরায়ুমুখ ক্যানসারের বোঝা

এইচপিভির দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রধান কারণ। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে আনুমানিক ৬ লাখ ৪ হাজার নারী নতুন করে এ রোগে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার নারী মারা যান।

সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বজুড়ে ৯ কোটি ৫০ লাখের বেশি মেয়ে এইচপিভি টিকা পেয়েছে। তবে বৈশ্বিক টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি প্রয়োজন।

টিকাদানের আওতা বাড়ানোই মূল চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞদের সুপারিশে স্পষ্ট করা হয়েছে, ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী মেয়েদের টিকাদানের বিষয়টি সর্বজনীন বাধ্যতামূলক নির্দেশনা নয়; বরং টিকাদানের হার বাড়াতে সহায়ক হলে দেশগুলো এ বিকল্প বিবেচনা করতে পারে।

জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে টিকাদানের পাশাপাশি জনসচেতনতা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব দেশে টিকাদানের হার কম, সেখানে কার্যকর কর্মসূচি ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ রোগের দীর্ঘমেয়াদি বোঝা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *