দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও মূল্যহ্রাসের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি ব্যয় বাড়ানোর আহ্বান, ২০২৭ সালে প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সংবাদ সারাদিন
চীনের অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে আরও বড় আকারের রাজস্ব প্রণোদনা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির মতে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে বর্তমানে যে সরকারি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তা আকার ও পরিধি—দুই দিক থেকেই যথেষ্ট নয়। দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা, দীর্ঘস্থায়ী আবাসন খাতের সংকট এবং মূল্যহ্রাসের ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ব্যাংককে আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস
আইএমএফের সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক পূর্বাভাস অনুযায়ী, চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের ৫ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে। ২০২৭ সালে তা আরও কমে ৪ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
আইএমএফের মূল্যায়নে, চীনের সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে বৈদেশিক চাহিদা থেকে। অন্যদিকে দেশের ভেতরে ভোগব্যয় ও চাহিদা প্রত্যাশিতভাবে বাড়েনি। অর্থনীতির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে অভ্যন্তরীণ ভোগ ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।
মূল্যহ্রাসের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রণোদনা
চীনের অর্থনীতিতে পণ্য ও সেবার দাম দীর্ঘ সময় ধরে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা অর্থনীতিতে মূল্যহ্রাস বা ডিফ্লেশনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ পরিস্থিতিতে ভোক্তা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়াতে সরকারি ব্যয় এবং আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ।
অর্থনীতিতে চাহিদা বাড়লে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রণোদনার কার্যকারিতা নির্ভর করবে তা কতটা কার্যকরভাবে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়াতে পারে, তার ওপর।
আবাসন খাতের সংকট ও ভোক্তার আস্থা
চীনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে দীর্ঘস্থায়ী আবাসন খাতের সংকটও বড় বাধা হিসেবে রয়েছে। সম্পত্তির বাজারে অনিশ্চয়তা এবং পরিবারের আর্থিক আস্থার দুর্বলতা ভোগব্যয়কে প্রভাবিত করছে।
এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে আবাসন খাত পুনরুদ্ধারে কার্যকর নীতি গ্রহণ, পরিবারের আস্থা বাড়ানো এবং সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির মতে, পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কমানো গেলে তারা ভোগব্যয় বাড়াতে আরও আগ্রহী হতে পারে।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?
চীন বিশ্বের অন্যতম প্রধান উৎপাদন ও বাণিজ্যকেন্দ্র। দেশটির অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল থাকলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, পণ্য উৎপাদন এবং বিভিন্ন দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পে প্রভাব পড়তে পারে। বিপরীতে, চীনের ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ বাড়লে বৈশ্বিক পণ্যের চাহিদায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বড় প্রণোদনা দিলেই অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার নিশ্চিত হবে না। আবাসন খাতের সমস্যা, ভোক্তার আস্থা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারও গুরুত্বপূর্ণ। চীন সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় এবং সেগুলো অর্থনীতিতে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে আন্তর্জাতিক বাজারের।


