চন্দ্রগঞ্জে সোনালী থেকে মিল্লাত ব্রিকস, পাওনা চাইতে গিয়ে গ্রাহকের হার্ট অ্যাটাক!

মো. সাইফুল ইসলাম | লক্ষ্মীপুর।

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে সোনালী ব্রিকফিল্ডের নাম পরিবর্তন করে ‘মিল্লাত ব্রিকস’ নামে নতুন করে কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে আগের মালিকের কাছে গ্রাহকদের প্রায় ৫ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিনেও সেই টাকা ফেরত না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা। তাঁদের দাবি, পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে এক গ্রাহক ইটভাটা প্রাঙ্গণেই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন।

গত ২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) দুপুরে পাওনা টাকা আদায়ের দাবিতে সোনালী ব্রিকফিল্ড এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। এ সময় তাঁরা দ্রুত পাওনা টাকা পরিশোধের দাবি জানান। অন্যথায় তাঁদের পাওনা পরিশোধ না করে ইটভাটা চালু করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সোনালী ব্রিকফিল্ডের সাবেক মালিক ফারুকী আজম গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা পরিশোধ না করেই বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ ও পাওনা টাকা আদায়ের চেষ্টা করেও কোনো সমাধান পাননি তাঁরা। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট গ্রাহকরা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ার একপর্যায়ে এক গ্রাহক ইটভাটা প্রাঙ্গণে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন। এ ঘটনায় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে, গত ১১ অক্টোবর সোনালী ব্রিকফিল্ডের পরিবেশগত ছাড়পত্র ও নবায়নের আবেদন বাতিল করে পরিবেশ অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইটভাটার এক কিলোমিটারের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় আইন অনুযায়ী ভাটাটির অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণে ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে এনআরবিসি ব্যাংকের নিলামের মাধ্যমে সোনালী ব্রিকফিল্ডটি ক্রয় করেন আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম উদ্দিন। পরে চলতি বছর তিনি ব্রিকফিল্ডটি মঞ্জুর হোসেনের কাছে ভাড়া দেন। এ বিষয়ে একটি ভাড়ার চুক্তিপত্র রয়েছে।

মঞ্জুর হোসেন জানান, ব্যাংকের নিলামের মাধ্যমে নিজাম উদ্দিন ব্রিকফিল্ডটি ক্রয় করার পর তিনি ভাড়া নিয়েছেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বাতিল হওয়ার পর রিভিউ করে ব্রিকফিল্ডটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে সাবেক মালিক ফারুকী আজমের কাছে গ্রাহকদের পাওনা টাকার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে, পরিবেশগত ছাড়পত্র বাতিলের পরও ব্রিকফিল্ড এলাকায় সংস্কারকাজ চলা এবং নতুন নামে ‘মিল্লাত ব্রিকস’ হিসেবে কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের প্রশ্ন, পুরোনো গ্রাহকদের পাওনা টাকা পরিশোধ না করে কীভাবে একই ইটভাটা নতুন নামে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে? একই সঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বাতিলের পর সংস্কারকাজের অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করে তাঁদের প্রায় ৫ কোটি টাকা পাওনা উদ্ধারের পাশাপাশি ইটভাটার কার্যক্রমের বৈধতা যাচাই ও বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সোনালী ব্রিকফিল্ডের সাবেক মালিক ফারুকী আজম এবং ব্যাংকের নিলামে ব্রিকফিল্ডটি ক্রয়কারী নিজাম উদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *