সংবাদ সারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১ আগস্ট ২০২৬
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন ১১টি শিল্পকারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার কারখানাগুলোতে কর্মরত কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের চাকরি থেকে অব্যাহতির নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশের সিদ্ধান্ত ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ায় প্রায় সাড়ে চার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে কারখানাগুলোর নিরাপত্তা ও বৈদ্যুতিক বিভাগের সীমিতসংখ্যক কর্মী দায়িত্বে থাকতে পারেন।
বন্ধ ঘোষণা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম অয়েল, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম ব্যাগ ফ্যাক্টরি, চেমন ইস্পাত লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড, এস আলম স্টিল, এস আলম পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড, এস আলম পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড এবং একটি পশুখাদ্য উৎপাদনকারী কারখানা। তবে বাঁশখালীতে অবস্থিত এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের কার্যক্রম চালু থাকবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে কারখানার নোটিশ বোর্ডে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামের তালিকাসহ চাকরি থেকে অব্যাহতির ঘোষণা দেওয়া হয়। আকস্মিকভাবে চাকরি হারানোর খবরে শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজে প্রায় ৫০০ স্থায়ী এবং ২০০ অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হিসাবে, কর্ণফুলীতে বন্ধ হওয়া অন্য কারখানাগুলো মিলিয়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ কর্মরত ছিলেন।
কারখানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনাগত ও আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। কয়েকটি কারখানায় উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ থাকলেও কিছু প্রতিষ্ঠানে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চলছিল। তবে এবার অবশিষ্ট কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার মাধ্যমে কারখানাগুলো পুরোপুরি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের প্রকৌশলী হাসমত আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক হিসাবের ওপর বিধিনিষেধ এবং নতুন ঋণপত্র খুলতে না পারায় বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করা সম্ভব হচ্ছিল না। গুদামে থাকা কাঁচামাল দিয়ে কিছুদিন উৎপাদন চালানো হলেও সেই মজুতও শেষ হয়ে গেছে।
কোম্পানির পক্ষ থেকে চাকরিচ্যুত শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন এবং অন্যান্য প্রাপ্য অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে শ্রমিকেরা জানিয়েছেন। এর আগেও বিভিন্ন পর্যায়ে কিছু কর্মীকে তাঁদের পাওনা পরিশোধ করে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।
কারখানাগুলো পুনরায় চালু হলে কর্মীদের কাজে ফেরানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে কবে নাগাদ প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম আবার শুরু হতে পারে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
একসঙ্গে এতগুলো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হারানোর ঘটনায় কর্ণফুলীর স্থানীয় অর্থনীতি, শ্রমবাজার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে এস আলম গ্রুপের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


