শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি, সতর্ক করল ফায়ার সার্ভিস

Table of content

Table of content

জাতীয় ডেস্ক | সংবাদ সারাদিন | ১৯ অক্টোবর ২০২৬

শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। অসাবধানতা ও অসচেতনতার কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে উল্লেখ করে সংস্থাটি অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৩টি নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সচেতনতামূলক বার্তায় এসব নির্দেশনার কথা জানানো হয়।

ভবন নির্মাণে অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনার ওপর জোর

ফায়ার সার্ভিসের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে ‘অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩’ এবং এ-সংক্রান্ত অন্যান্য আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করতে হবে। ভবন নির্মাণের সময় অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি পরিকল্পনায় উল্লেখিত শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

রান্নাঘর ও গ্যাস ব্যবহারে সতর্কতা

রান্নার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। রান্না শেষে চুলা ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ রাখতে হবে। গ্যাসের চুলা নেভাতে ফুঁ দেওয়া যাবে না; চুলার নব ভালোভাবে বন্ধ করতে হবে।

চুলা জ্বালানোর আগে রান্নাঘরের দরজা-জানালা খুলে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। রান্নাঘরে গ্যাস জমে থাকলে চুলা জ্বালানো অত্যন্ত বিপজ্জনক বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

বৈদ্যুতিক সংযোগ ও দাহ্যবস্তু ব্যবহারে সতর্কতা

বৈদ্যুতিক সংযোগ, তার, সুইচ ও যন্ত্রপাতি নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার এবং অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক লোড এড়িয়ে চলতে হবে।

ধূমপানের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত অংশ সম্পূর্ণ নিভিয়ে নিরাপদ নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে। শিশুদের আগুন, দিয়াশলাই ও লাইটার নিয়ে খেলতে দেওয়া যাবে না। দাহ্যবস্তুর গুদামে খোলা বাতি ও মশার কয়েল ব্যবহার থেকেও বিরত থাকতে হবে।

অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ও প্রশিক্ষণের পরামর্শ

ফায়ার সার্ভিসের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বাসাবাড়ি, কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখতে হবে। এসব যন্ত্রের ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা অর্জনের পাশাপাশি নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা মহড়ার আয়োজন করতে হবে।

এ ছাড়া অগ্নিপ্রতিরোধ, অগ্নিনির্বাপণ, উদ্ধারকাজ ও প্রাথমিক চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ নিতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সচেতনতাই পারে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে

অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমাতে বাড়ি, কর্মক্ষেত্র ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং আগুন লাগলে করণীয় সম্পর্কে আগাম প্রস্তুতি রাখা জরুরি। ফায়ার সার্ভিসের নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি জরুরি নির্গমনপথ সচল রাখা এবং অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারে প্রশিক্ষিত থাকা দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *