বাংলাদেশের পর্যটন খাতে ১২০ কোটি ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী জাপানি বিনিয়োগকারীরা

Table of content

Table of content

পর্যটন অবকাঠামো ও আতিথেয়তা খাতের উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চান তাঁরা; আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর শুরু হবে পরবর্তী পদক্ষেপ

নিজস্ব প্রতিবেদক | পর্যটন | সংবাদ সারাদিন

ঢাকা, ১৯ অক্টোবর ২০২৬: বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে প্রাথমিকভাবে ১২০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন জাপানি বিনিয়োগকারীদের একটি প্রতিনিধি দল। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দেশের পর্যটন অবকাঠামো, হোটেল-রিসোর্ট ব্যবসা এবং পর্যটকসেবার মান উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে বৈঠকে জাপানি প্রতিনিধিরা তাঁদের বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানান। মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। জাপানি প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আগ্রহও পুনর্ব্যক্ত করেন।

আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের পর এগোবে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া

জাপানি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়ার পর সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। পর্যটন অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট সেবার উন্নয়নে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পিপিপি পদ্ধতিতে কাজ করতে আগ্রহী।

মন্ত্রী আরও জানান, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এমন একটি কাঠামো অনুসরণ করা হবে, যাতে বিনিয়োগকারী ও বাংলাদেশ—উভয় পক্ষই লাভবান হয়।

প্রস্তাবিত বিনিয়োগের অর্থ কোন কোন প্রকল্পে ব্যয় হবে, কোন এলাকায় প্রকল্প গড়ে উঠবে এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা কী হবে—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। তাই ১২০ কোটি ডলারের অঙ্কটিকে ঘোষিত প্রাথমিক পরিকল্পনা হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে কেন বিনিয়োগের সম্ভাবনা

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্রসৈকত, বনাঞ্চল, পাহাড়, চা-বাগান এবং বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কারণে বাংলাদেশে পর্যটনশিল্প বিকাশের উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে। তবে এসব সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন পণ্যে রূপ দিতে উন্নত আবাসন, যোগাযোগব্যবস্থা, বিনোদনসুবিধা, দক্ষ জনবল এবং মানসম্মত সেবার প্রয়োজন।

পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক আকর্ষণের কথা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের মাধ্যমে এ খাতের উন্নয়নে সরকারের আগ্রহের কথা জানান।

বিশেষ করে কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন এবং সিলেটের চা-বাগানসহ বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যে পরিকল্পিত বিনিয়োগ পর্যটকদের অভিজ্ঞতা উন্নত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই অবকাঠামো এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে নতুন সুযোগ

পর্যটনশিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হলে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সেবামূলক ব্যবসায় নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে নির্মাণ, ব্যবস্থাপনা, খাদ্যসেবা ও পর্যটক সহায়তার মতো ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

তবে এসব সুফল নির্ভর করবে বিনিয়োগের প্রকৃত পরিমাণ, প্রকল্প নির্বাচন, বাস্তবায়নের গতি এবং স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে প্রকল্পগুলোর সংযোগের ওপর।

বাংলাদেশের পর্যটন খাতে ইতিমধ্যে জাতীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা চলছে। পর্যটন আকর্ষণগুলোকে সমন্বিতভাবে উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের পরিচিতি বাড়ানো এবং পর্যটকদের জন্য মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা এ খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানি বিনিয়োগকারীরা সরকারের বিবেচনার জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্যগুলো পরিদর্শন এবং উপযুক্ত প্রকল্প চিহ্নিত করতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী।

ফলে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব, প্রকল্প মূল্যায়ন, অর্থায়নের কাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট অনুমোদনপ্রক্রিয়ার ওপর।

সব মিলিয়ে, জাপানি বিনিয়োগকারীদের ১২০ কোটি ডলারের প্রাথমিক পরিকল্পনা বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে এনেছে। এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই আগ্রহ কত দ্রুত সুনির্দিষ্ট প্রকল্পে রূপ নেয় এবং তা দেশের পর্যটন অবকাঠামো, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কতটা কার্যকর অবদান রাখতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *